পাবনা ঈশ্বরদীতে এবারের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে অধিকাংশ কলেজে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার আটটি কলেজের মধ্যে সাতটিতে পাসের হার ৩০ শতাংশের নিচে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
কলেজগুলোর নিম্ন ফলাফলে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি এবং কয়েকজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত বাণিজ্যকে এ ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, ঈশ্বরদীর আটটি কলেজের কোনোটিতেই আশানুরূপ ফল হয়নি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কমে যাওয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।
ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ থেকে পরীক্ষায় ৯৯২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৬০৪ জন পাস করেছে এবং ৩৮৮ জন ফেল করেছে। পাসের হার ৬২ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ জন।
ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের ৪২২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৬০ জন। 262 জন ব্যর্থ হয়েছে। পাসের হার ৩৭.৯১ শতাংশ।
সরকারি সারা মাড়োয়ারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে মাত্র ১৩৪ জন পাস করেছে। 349 জন ব্যর্থ হয়েছে। পাসের হার ২৭.৭৪ শতাংশ। মানবিক বিভাগের এক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
পাকশী কলেজের ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১ জন। 33 জন ব্যর্থ হয়েছে। পাসের হার ২৫ শতাংশ। এ কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।
মুলাডুলি কলেজ থেকে ১৩৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করেছে ২২ জন এবং ফেল করেছে ১১১ জন। পাসের হার ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।
বাঁশেরবাদা ডিগ্রি কলেজের 168 জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে 31 জন পাস করেছে। 137 জন ব্যর্থ হয়েছে। পাসের হার ১৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।
দাশুরিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে ৩২৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭০ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। 255 জন ব্যর্থ হয়েছে। পাসের হার ২১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।
অন্যদিকে, সলিমপুর ডিগ্রি কলেজের ৫৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬ জন পাস ও ৩৮ জন ফেল করেছে। পাসের হার ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।
এ ছাড়া মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ফলাফলও কলেজের মতো হতাশাজনক বলে জানা গেছে। চলতি বছরের ২ জুলাই থেকে ঈশ্বরদীর পাঁচটি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, এইচএসসি পরীক্ষায় খারাপ ফলাফলের অন্যতম কারণ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত কলেজে না আসা। এমনকি তারা যখন কলেজে আসে, তখন অনেকেই শ্রেণীকক্ষে পাঠদানে মনোযোগ দেয় না। কেউ কেউ চ্যাট করে এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সময় পার করে। শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে ভালো ফলাফল করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।