পেন্টাগন ইউরোপীয় নেতাদের ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়া সম্পর্কে অতিরিক্ত আগ্রাসী ও উস্কানিমূলক মন্তব্য না করার পরামর্শ দিয়েছে। পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন যে ইউরোপীয় নেতাদের এই ধরনের বাগাড়ম্বর এবং প্রকাশ্য বিবৃতি সমগ্র মহাদেশের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত চারটি স্পর্শকাতর সূত্রের বরাত দিয়ে সম্প্রতি এ তথ্য জানা গেছে।
বিশেষ করে, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া এবং এস্তোনিয়ার মতো বাল্টিক দেশগুলিকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে কঠোর মন্তব্য এড়াতে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছরে যখন ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে ঠিক তখনই তার মিত্রদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কূটনৈতিক বার্তা এলো। ওয়াশিংটন রাশিয়ার উপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ইঙ্গিত দিচ্ছে, পাশাপাশি ইউক্রেনকে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইউরোপীয় নেতাদের কিছু অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য মস্কোকে আরও ক্ষুব্ধ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে, এস্তোনিয়ান প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিকাল রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘কোনা ইঁদুর’ বলে অভিহিত করে বলেছিলেন যে ইউক্রেনে ব্যর্থ হওয়ার পর রাশিয়া এখন ইউরোপে নাশকতা চালাচ্ছে। পেন্টাগনের নীতির প্রধান এলব্রিজ কোলবি সম্প্রতি বাল্টিক কর্মকর্তাকে বলেছেন যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো উস্কানি দেওয়া উচিত নয়। পেন্টাগন মিত্রদের কাছে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং মার্কিন সেনারা প্রস্তুত; কিন্তু জনসম্মুখে এত বেশি শব্দ বা উত্তপ্ত বিনিময় করা উচিত নয়।
তবে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের এমন সতর্কবার্তায় কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কারণ, রাশিয়া সত্যিই ন্যাটোর নিরাপত্তা ভেঙ্গে বড় ধরনের হামলা চালাবে কিনা তা নিয়ে ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিজেদের মধ্যে বিভক্ত। অন্যদিকে, ইউরোপীয় নেতারা জার্মানি ও অন্যান্য দেশের অবকাঠামো ধ্বংস ও সাইবার হামলার ষড়যন্ত্রের পেছনে রাশিয়ার হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য মানুষকে সতর্ক করতে চান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করছে এবং ইউরোপীয় ন্যাটো দেশগুলোকে তাদের নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য আরও দায়িত্ব নিতে চায়। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে মিত্রশক্তির রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘নরম সুর’ নেওয়ার বার্তা আবারও ন্যাটো এবং মার্কিন আঞ্চলিক নীতির অভ্যন্তরীণ বিভাজন উন্মোচিত করেছে।