ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন। শনিবার ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতির সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াত।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সচিব ও প্রধান যদি অনিয়মের কথা অস্বীকার করেন, তাহলে বুঝতে হবে, যারা অনিয়ম করেছে তাদের সঙ্গে সিইসি ও ইসি সচিবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সাংবিধানিক পদে বসে তারা এই পদের সুবিচার করেননি।
বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষে রাজধানীর আগারগাঁও ভোট কেন্দ্রে আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এই নির্বাচন নিয়ে ইসি সন্তুষ্ট।
এর আগে বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে উপ-নির্বাচনের কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে উপনির্বাচন চলছে। 11-দলীয় জোটের উত্থাপিত অভিযোগের সমাধান করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচনে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসাররা পরিচয়পত্র বা ব্যাজ ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একাদশ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত কলম দিয়ে কাগজে পরিচয় লিখে পকেটে রাখেন। এমনকি কোনো নিয়োগপত্রও দেখাতে পারেনি তারা। ফলে তারা নির্বাচন কমিশনের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কি না তা নিশ্চিত হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না।
জামায়াতের সেক্রেটারি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ব্যালট পেপারে সিল মারা, জাল ভোট দেওয়া এবং কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। কিছু কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার ফলাফল ঘোষণা না করেই পুলিশের গাড়িতে করে চলে যাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, এসব ঘটনার পরও ইসি সচিব অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের মন্তব্য অনিয়মকে বৈধতা দিয়েছে।
তবে উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে চান না বলে জানিয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে আরও তথ্য আসছে। সেগুলো পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে পরে তারা এ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন।
গণভোটের রায় না মানলে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে
সংবাদ সম্মেলনে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, সরকারকে গণভোটের রায় মেনে নিতে হবে। এটা মেনে না নিলে রাজনৈতিক সংকট নিরসনের বিকল্প থাকবে না। সরকার একদলীয় ও স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে চলতে থাকলে রাজনীতি সংঘাতের দিকে নিয়ে যাবে। সরকার দেশকে সেই দিকেই ঠেলে দিচ্ছে। জামায়াত এই সংকট সংসদের মাধ্যমে সমাধান করতে চায়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ৯ নভেম্বর সংসদের অধিবেশন আছে। সরকার যদি জনগণের আস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে চায় তাহলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে। এর জন্য কোনো বিশেষ কমিটির প্রয়োজন নেই। গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোটে সংবিধান সংশোধনী প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে জনগণ।
লংমার্চে 1,500 যানবাহনকে টার্গেট করা হয়েছে
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার শনিবার খুলনা অভিমুখে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, কনভয়টি রাজধানীর বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে হানিফ ফ্লাইওভার হয়ে যশোর ও কুষ্টিয়া হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, রূপসা সেতু হয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক হয়ে যাবে। প্রায় 425 কিলোমিটারের এই যাত্রায় 19টি জেলা অতিক্রম করা হবে। পথে একাধিক পথসভা হবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রাথমিকভাবে ৬৫০ থেকে ৭০০ গাড়ি থাকবে। বিভিন্ন জেলার যানবাহন খুলনা পৌঁছানোর জন্য যোগ করা হলে, বহরে প্রায় 1000 যানবাহন হবে। পরবর্তীতে যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া থেকে আরো গাড়ি যোগ করা হবে। কুষ্টিয়া জেলা স্টেডিয়ামে প্রায় ১৫০০ গাড়ি যোগ হবে বলে আশা করছেন তারা।
লংমার্চ শান্তিপূর্ণ রাখতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, পথের কোথাও প্রতিপক্ষকে আঘাত করে এমন কোনো উস্কানিমূলক বক্তব্য বা স্লোগান দেওয়া যাবে না। কোনো ধরনের উসকানি বা বাধার সম্মুখীন হলেও যানবাহন থেকে না নেমে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
বিমান বাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তার নিখোঁজ ও লাশ উদ্ধারের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আজাদ, মুয়ায্যাম হোসেন হেলাল, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রমুখ। মোবারক হোসেন, মতিউর রহমান আকন্দ, সেলিম উদ্দিন প্রমুখ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।