দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা বৈঠকের পরও নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের সদস্যপদ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি জেলা বিএনপি। তার দলীয় পদ বহাল রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নাটোর জেলা বিএনপি।
আব্দুল আজিজ নাটোর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। ফলে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা বিএনপি তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করতে পারে না বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আব্দুল আজিজের একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ওই ঘটনায় নাটোর জেলা বিএনপি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এ ছাড়া ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন তার ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টু।
একই সঙ্গে ভাঙচুর ও লুটপাটসহ পিতা-পুত্রের এসব ঘটনায় দেশজুড়ে নানা ধরনের সমালোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে তুমুল বিতর্ক। অনেকে এমপি পদ থেকে আব্দুল আজিজের পদত্যাগ ও ছেলের ফাঁসি দাবি করছেন।
জেলা বিএনপির একটি সূত্র বলছে, এমপি আবদুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিওটি সঠিক। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় একটা নৈতিক দ্বিধা তৈরি হয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে। এ অবস্থায় করণীয় ঠিক করতে শুক্রবার সকালে বৈঠক করেছে নাটোর জেলা বিএনপি। ওই সভায় জেলা বিএনপির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 8 ঘন্টা ধরে বৈঠক চলে। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
বৈঠকে শাকিল হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে থাকা সাংসদপুত্র মিন্টুর কথিত সম্পৃক্ততা এবং আবদুল আজিজের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাম্প্রতিক ঘটনার আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনের পর সদস্যরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। দলের গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করে আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে তুলে ধরার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তারা।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘সব ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছি। আব্দুল আজিজ জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে আমাদের কাছে পরিচিত। তিনি সংসদ সদস্যও। তাই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো যুগ্ম আহ্বায়কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা জেলা কমিটির নেই। তারা সর্বসম্মতিক্রমে এ বিষয়ে যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দলের উচ্চপর্যায়ের ওপর ন্যস্ত করেন।
এদিকে শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার নুরুজ্জামান মিন্টুকে আদালতে হাজির করে আরও সাত দিনের রিমান্ড চায় গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও দুইজনকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত আসামি মিন্টুকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রিমান্ড শেষ হলে আসামিকে আদালতে হাজির করে আরও ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। রিমান্ড আবেদন গৃহীত হলেও বিচারক শুনানি না করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।