বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি

ফ্রান্সের তুলুজে, ৭ অক্টোবর ২০২৬— বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সর্বশেষ প্রজন্মের ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার জন্য একটি চূড়ান্ত ক্রয়াদেশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চারটি A350-900 ওয়াইডবডি এবং ছয়টি A321neo সিঙ্গেল-আইল উড়োজাহাজ। এটি বিমানটির বহর আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উচ্চাকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ঢাকাকে প্রধান হাব হিসেবে ব্যবহার করে বিমান এসব সর্বশেষ প্রজন্মের উড়োজাহাজের দীর্ঘ পাল্লা, দক্ষতা ও পরিচালনাগত অর্থনৈতিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিজেদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করবে। এসব উড়োজাহাজের মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার পাশাপাশি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোতে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এয়ারবাস বলছে,

বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের জনসংখ্যা, দ্রুত সম্প্রসারিত ভ্রমণবাজার এবং প্রায় দেড় কোটি প্রবাসীর কারণে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের চাহিদা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি বাণিজ্যের সম্প্রসারণ বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহনের চাহিদাও বাড়াবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসাইন বলেন,

“বাংলাদেশ একটি গতিশীল দেশ, যার জনসংখ্যা ২০ কোটি এবং যার অর্থনীতি স্থিতিশীল ও ভ্রমণবাজার দ্রুত বাড়ছে। প্রায় দেড় কোটি মানুষের একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক প্রবাসী সম্প্রদায় আমাদের বিশেষভাবে সহায়তা করছে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের পরিকল্পিত বহর সম্প্রসারণ একটি পরিমিত ও যৌক্তিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।”

এয়ারবাস কমার্শিয়াল এয়ারক্রাফট ব্যবসার বিক্রয় বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট বেনোয়া দ্য সাঁ-এক্সুপেরি বলেন,

এই ক্রয়াদেশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে এয়ারবাসের অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর ভাষায়, A350 ও A321neo একসঙ্গে বিমানকে নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সম্প্রসারণ এবং বাড়তে থাকা যাত্রী চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।

A350-900 বিশ্বের আধুনিক ওয়াইডবডি উড়োজাহাজগুলোর একটি। এটি প্রায় ৯ হাজার ৭০০ নটিক্যাল মাইল বা ১৮ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে উড়তে সক্ষম। সর্বশেষ প্রযুক্তি, উন্নত অ্যারোডাইনামিক নকশা, রোলস-রয়েসের নতুন প্রজন্মের ইঞ্জিন এবং হালকা উপকরণ ব্যবহারের কারণে আগের প্রজন্মের প্রতিদ্বন্দ্বী উড়োজাহাজের তুলনায় এর জ্বালানি ব্যবহার, পরিচালন ব্যয় ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণে প্রায় ২৫ শতাংশ সুবিধা রয়েছে বলে এয়ারবাস জানিয়েছে।

অন্যদিকে A321neo হলো এয়ারবাসের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া A320neo পরিবারের সবচেয়ে বড় সদস্য। এটি আঞ্চলিক ও মধ্যম-পাল্লার রুটে ব্যবহারের জন্য তৈরি। আগের প্রজন্মের উড়োজাহাজের তুলনায় A321neo-তে জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ অন্তত ২০ শতাংশ কম।

এয়ারবাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির সই অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসাইন এবং দক্ষিণ এশিয়ায় এয়ারবাসের প্রেসিডেন্ট জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার উপস্থিত ছিলেন।

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Press Nation Bangladesh