জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আমি ভোট চুরি করব না, জালিয়াতি করব না, কাউকে করতে দেব না। এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনে অনিয়মের ঘটনায় কর্মী-সমর্থকদের ভোট কেন্দ্র ঘেরাও করার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলা স্কুল বড় মাঠে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে নির্বাচনী কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ভোট গণনার সময় কোনো প্রিজাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্র সিলগালা করতে সাহায্য করলে বা ধানের শীষ দিয়ে গণনা করলে কেন্দ্রটি ঘেরাও করে দিতে হবে। প্রিজাইডিং অফিসারকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে যাতে সে পালাতে না পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার, ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দিতে হবে। আমরা ভোট চুরি করব না, জালিয়াতি করব না, কাউকে করতে দেব না।’
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি জনগণের দুর্ভোগ শেষ করতে পারেনি। সারের সংকটে পড়েছেন উত্তরবঙ্গের কৃষকরা। সার না থাকায় তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপি দলীয় নেতাকর্মী ও স্বজনরা। প্রতিটি ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আট মাসে বিএনপি সরকারের অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তাদের মাথা ঠিক নেই। ‘ওরা এখন জ্বরে ভাবীকে মা বলে ডাকে।’ তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সারাদেশে লুটপাটের হাট বসিয়েছে।
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৯৪ সালের মতো আসন নিতে গিয়ে সরকার যেন ঝামেলায় না পড়ে।’
জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিরোধী দল থেকেও যে উন্নয়ন করা যায় তা দেখা গেছে। সরকারি বরাদ্দ না থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসের চেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেক্রেটারি জেনারেল শিগবতুল্লাহ সিগবা, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হালিম উদ্দিনসহ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।