জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যদানকারী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনকে ঘিরে ঘটনা তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে দলটি।
কমিটির দুই সদস্য হলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন) ও নুরুল ইসলাম বুলবুল। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও গণমাধ্যম বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে পিরোজপুরের সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, কমিটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ঘটনার তদন্ত করবে এবং জামায়াতের কেউ জড়িত আছে কি না তা দেখবে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটিকে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার মানিক পশারী মারা যান। তবে পিরোজপুরে তাকে দেওয়া গার্ড অব অনারকে কেন্দ্র করে শনিবার উত্তেজনা দেখা দেয়। তার দাফনও বাধাগ্রস্ত হয়। তাকে এখানে দাফন না করার দাবি স্থানীয় কয়েকজনের। এ সময় পিরোজপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের অবস্থান ও সমাবেশ করতে দেখা যায়।
তবে পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জহিরুল হক বলেন, মানিক পশারীর দাফনে আমাদের কোনো বাধা ছিল না। তবে দাফনের ব্যাপারে আমাদের কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। কার ছত্রছায়ায় এবং প্রশাসনের সহায়তায় দাফন করা হয়েছে সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।’
অন্যদিকে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা নন। তবে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। তারা এর প্রতিবাদ করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে 1971 সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি 14 আগস্ট, 2023 রাতে মারা যান।