ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে হাতকড়া পরানোর ঘটনায় বিএনপির অপর দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে আলোচিত এ মামলায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সরিষা ও আশ্রাবপুর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মিলন (৫০) ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নয়ন মন্ডল (২৮)।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদকে সরিষা এলাকা থেকে এবং নয়ন মণ্ডলকে আশ্রাবপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সরিষা ডেকোয়ারচর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ‘রংতরং’ নামে একটি সংগঠনের আয়োজনে ফুটবল খেলা দেখতে যান নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীন (৩০)।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রায়বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও ঈশ্বরগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সরিষা ইউনিয়ন অফিস পরিষদের কাছে একদল লোক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে গেলে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় রিয়াজুলকে হাতকড়াসহ পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশের ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাও ভাঙচুর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শনিবার ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাজাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ এবং বিবাদী হিসেবে আরো ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করে। তারা হলেন উপজেলার বৈরাটি গ্রামের মো. ওয়াসিম মিয়া (২৬) ও সারিশা গাংপাড় এলাকার মো. এমদাদুল হক (৪৫)। তবে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। শনিবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমান জানান, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় বিএনপি নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সদ্য গ্রেফতার হওয়া দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া অপর দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।