তিন সন্তানকে নিয়ে সুখে-দুঃখে দিন কাটাচ্ছিলেন নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার শ্রী কৃষ্ণ কাহার ও পাখি রানী কাহার দম্পতি। কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের বড় ছেলে পুকুরে ডুবে যায়। এরপর দুই মেয়েকে নিয়ে পূর্ণ আশা নিয়ে বেঁচে ছিলেন বাবা-মা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস! তিন বছর আগে যে দুর্ঘটনায় বড় ছেলেকে হারিয়েছেন, একই দুর্ঘটনায় দুই মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তিন সন্তানকে হারিয়ে হতাশ এই দম্পতি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরআমান উল্যা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরআমান উল্যা গ্রামে পুকুরে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু হয়।
পুকুরে ডুবে যাওয়া দুই বোন হলেন স্বর্ণা রানী কাহার (৬) ও রূপা রানী কাহার (৫)। তাদের মধ্যে স্বর্ণা রানীর চর আমানউল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।
স্থানীয় ও পারিবারিক পুলিশ জানায়, রোববার দুপুর ১২টার কিছু আগে মা ও বাবার অজান্তে দুই বোন একসঙ্গে বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মারা যায়। এ সময় তাদের মা রান্নাঘরে এবং বাবা দোকানে ছিলেন। দুই বোনকে না দেখে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের মা পুকুরের পানিতে বুদবুদ উঠতে দেখেন। এতে সন্দেহ হলে তিনি পুকুরের পানিতে তল্লাশি চালিয়ে দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেন।
চরজব্বার থানার এসআই মো. আশরাফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, প্রায় তিন বছর আগে এই দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায়। রোববার শেষ দুই মেয়ের মৃত্যুতে পরিবারটি নিঃসন্তান হয়ে পড়ায় তারা বিলাপ করছেন।
এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাদের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো অভিযোগ দায়ের না হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই শিশুর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।