বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির (২৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার তরুণীকে (১৯) চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রবিবার (১ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা পূর্ব থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ফিরোজ উদ্দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এই ঘটনার আসামির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে উল্লেখ করে রিমান্ড আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামির রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি শুনানিতে বলেন, পূর্বে রিমান্ডে থাকা অপর আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে আসামির তথ্য ক্রস-চেক বা মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির সর্বোচ্চ রিমান্ডের প্রার্থনা করছি।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ইমাম হোসেন জাবেদ রিমান্ড বাতিল পূর্বক জামিনের আবেদন জানান। তিনি শুনানিতে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে আসামি কোনোভাবে জড়িত না। এই মামলায় দীপের নাম এসেছে। তিনি রিমান্ডে আছেন। শুধু সিসিটিভির ফুটেজের ওপর ভিত্তি করে তাকে (তরুণীকে) গ্রেফতার করা হয়েছে। সেদিন রাত ১২টার দিকে ভিকটিম এই আসামিকে গাড়িতে করে বাসায় পৌছে দেয়। এরপর আর কোনও যোগাযোগ হয়নি। ভিকটিমের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সেদিন তারা রেস্টুরেন্টে নাস্তা করতে গিয়েছিলেন। এর বাইরে আসামি সেই তরুণী কিছুই জানেন না।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নথি পত্র বিশ্লেষণ করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এরআগে শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কাফরুল এলাকা থেকে ওই তরুণীকে গ্রেফতার করা হয়। ওইদিনই তাহসিফ সাউরির ‘বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বাবা কে এম এনায়েতুল করিম শুক্রবার রাতে উত্তরখান থানায় মামলা করেন।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ বুধবার বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘দীপের ডাকে’ বাসার নিচে নামেন এবং নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
দীপ বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকা থেকে তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান। তবে সেদিন রাতেই মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছে ভিন্ন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
পরে দীপের দেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইকটি উদ্ধার করা হয়। ‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকারও করে দীপ। একপর্যায়ে তাকে নিয়ে শুক্রবার টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনেও গিয়েছিলেন পিবিআই কর্মকর্তারা।