দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত শওকত আজিজের আত্মসমর্পণ, কারাগারে প্রেরণ

7837a6cdf4e5c1e63f10cbb2496514d6 6ae72dee1e1e1 7837a6cdf4e5c1e63f10cbb2496514d6 6ae72dee1e1e1
7837a6cdf4e5c1e63f10cbb2496514d6 6ae72dee1e1e1

পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (১ নভেন্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন শওকত আজিজ রাসেল। তারপক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা খান শুনানি করেন। দুদকের পক্ষে  খন্দকার শামীম হোসেন জামিনের বিরোধিতা করেন।

শুনানি নিয়ে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

দুদক প্রসিকিউটর খন্দকার শামীম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,‘পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি শওকত আজিজ রাসেল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। তার পক্ষের আইনজীবীরা এ মামলায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন। পরে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।’

এর আগে গত ১৩ অক্টোবর​ একই আদালত এম এ হাসেমের দুই ছেলে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেল, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালউদ্দিন চৌধুরীসহ আটজনকে পৃথক দুই ধারায় ৭ বছর করে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন—রাজউকের সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) এস ডি ফয়েজ, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (অর্থ) এস এম জাফর উল্লাহ, সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) এইচ এম জহুরুল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট) রেজাউল করিম তরফদার।

দণ্ডিতদের মধ্যে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেলের নামে ১০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ দিয়েছিল রাজউক।

রাসেল ও রুবেল দুজনই পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাসেমের ছেলে। আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এমডি রাসেল বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। আর পারটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবেল সিটি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।

দুদকের কৌঁসুলি খন্দকার শামীম হোসেন ওইদিন জানিয়েছিলেন, অপরাধমূলক অসদাচরণের দায়ে ৮ আসামিকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এছাড়া অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের দায়ে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে।

দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে জানিয়ে কৌঁসুলি শামীম বলেন, সেক্ষেত্রে তাদের সাত বছর করে কারাভোগ করতে হবে।

আসামিরা জামিনে ছিলেন। তবে রায় ঘোষণার দিন তারা আদালতে হাজির হননি। এজন্য আদালত জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামি ইকবালউদ্দিন, ফয়েজ, ওয়াহিদুল, জাফর উল্লাহ, জহিরুল হক ও রেজাউল করিম বৈধ আবেদনকারীদের সুযোগ না দিয়ে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ রুবেলকে পূর্বাচলে ১০ কাঠার একটি করে প্লট বরাদ্দ দেন। রাজউক কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০০১ সাল থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে এসব অনিয়ম করেন। তখন রাসেল ও রুবেলের বাবা এম এ হাসেম নোয়াখালী-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন।

এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস মতিঝিল থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন কমিশনের তৎকালীন উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম। ২০১৯ সালের ২৬ অগাস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।

মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে।

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Keep Up to Date with the Most Important News

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Press Nation Bangladesh
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com