ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে জামানত হারিয়েছেন তিন প্রার্থী। প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশও না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়।
ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকার ১৮৫টি কেন্দ্রের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ফলাফল অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩০। নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী একজন প্রার্থীকে নিরাপত্তার জন্য কমপক্ষে ৪১ হাজার ৬৬৭ ভোট পেতে হয়।
জামানত হারানো তিন প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন মো. আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ) পেয়েছেন ৮৩৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মো. খাদেমুল ইসলাম (হাটপাখা) পেয়েছেন ৩ হাজার ২৮৯ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসেইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডুব) পেয়েছেন ৪৫০ ভোট।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে বলা হয়েছে, এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩০টি। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৫টি। সে অনুযায়ী প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ প্রায় ৪১ হাজার ৭৯১টি। তবে জামানত হারানো তিন প্রার্থীর কেউই এই সংখ্যক ভোট পাননি।
নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর ইসির জারি করা সার্কুলারেও এই শর্তের কথা বলা হয়েছিল। সে হিসেবে বেসরকারি ফলাফলে নিরাপত্তা হারানো তিন প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট নির্ধারিত সীমার অনেক কম।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ছিল ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫ জন, মহিলা ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ চারজন ভোটার।
এদিকে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিন (ধানের শীষ) ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন (দদিপাল্লা) পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।
এছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা প্রার্থী, ভোটার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। কামরুল ইসলাম।