কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের তিনটি খুঁটি ফসলি জমিতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে হেলে পড়েছে। আড়াই বছর ধরে খুঁটিগুলো এ অবস্থায় পড়ে থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
খুঁটিতে বৈদ্যুতিক তারগুলোও মাটির খুব কাছে ঝুলে আছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উপজেলার উত্তরহাওলা ইউনিয়নের উত্তর ফেনুয়া ও দক্ষিণ ফেনুয়ার সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ ফেনুয়া এলাকার শামীম রাইস মিলের দক্ষিণ পাশের ফসলি জমির মাঝখান দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মেইন লাইন চলে গেছে। প্রায় আড়াই বছর আগে লাইনের একটি খুঁটি বিপজ্জনকভাবে ফসলি জমিতে পড়ে যায়। বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জানানো হলে খুঁটি সোজা না করে পাশে আরেকটি খুঁটি বসানো হয়। পরে একই লাইনে আরও দুটি খুঁটি হেলে পড়ে। এরপর থেকে তিনটি খুঁটিই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। খুঁটিতে বৈদ্যুতিক তারগুলোও মাটির খুব কাছে ঝুলে আছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, জমিতে চাষাবাদ, সেচ ও ফসল কাটার সময় তাদের আতঙ্কে থাকতে হয়। অনেকে দুর্ঘটনার ভয়ে বিপজ্জনক এলাকা এড়িয়ে চলেন। কৃষি মৌসুমে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার বা হাল চাষে ব্যবহৃত গবাদিপশুর সাথে চলাফেরা করার সময় ঝুলন্ত তারের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে মাটিতে পানি জমে বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
স্থানীয় কৃষক শামীম বলেন, “আমরা সব সময় আতঙ্কে মাঠে কাজ করি। আশপাশের বাড়ির লোকজনও তাদের জমিতে যেতে ভয় পায়। একটু অসতর্ক হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
দুর্ঘটনা এড়াতে এবং কৃষকদের নিরাপদ চাষ নিশ্চিত করতে দ্রুত কাত হওয়া খুঁটি সোজা করে নিরাপদ উচ্চতায় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সংক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ এর নাথেরপেটুয়া সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আহসান হাবীব জানান, শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।