গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় ৪র্থ শ্রেণির ১২ বছরের এক কিশোরীকে ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিহত শিশুর চাচাতো ভাইসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেফতারকৃতদের বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বুধবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।
মামলায় বলা হয়েছে, ভিকটিম শিশুটি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। তার বাবা মারা গেছেন প্রায় ছয় বছর আগে। মা ও বড় বোন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করায় শিশুটি দিনের বেশির ভাগ সময় বাড়িতে একা থাকত। সেই সুযোগে তার চাচাতো ভাই শিশুটিকে তাদের পুরনো বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গত মে মাসে প্রথমবার ধর্ষণ করে। পরে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে অন্য আসামিরাও তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি শিশুটি গর্ভবতী হয়েছে বুঝতে পেরে অভিযুক্ত চাচাতো ভাই গোপনে তার কাছে ওষুধ নিয়ে আসে। ফলে গতকাল ভোর চারটার দিকে শিশুটির পেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয় এবং গর্ভপাত হয়। চরম যন্ত্রণার মুখে শিশুটি তার মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলল।
তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তার পরিবার তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় নির্যাতিতার মা কালীগঞ্জ থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মামলার চার আসামির মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করেছে। মামলার ৪ নম্বর আসামি বর্তমানে পলাতক, তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।
