মাদক কেনার টাকা ও পারিবারিক কলহের জেরে জন্মদাতা পিতাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার পর রেহাই পায়নি আনোয়ার হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন। মোবাইল ফোন চার্জ দিতে প্রতিবেশীর বাড়িতে এলে স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়েন তিনি। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পুলিশে সোপর্দ করে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর থানা পুলিশ তাকে আনুষ্ঠানিক হেফাজতে নেয়। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও নিহতের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৬ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার সাইতালিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মাদকের টাকার দাবি ও পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে বাবা আবদুস সামাদের সঙ্গে ছেলে আনোয়ার হোসেনের বাকবিতণ্ডা হয়। বাবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আবদুস সামাদকে শক্ত লাঠি দিয়ে মাথায় ও বুকে আঘাত করতে থাকেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে বাবা ঘটনাস্থলেই মারা যান।
বাবার মৃত্যুর পরপরই আনোয়ার এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ও আসামির মামা কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহতের আত্মীয় তানজিম আহমেদ পুষ্প জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আসামি আনোয়ারের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য ঠিকানা খুঁজলেও তার কোনো হদিস পায়নি। অবশেষে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে আনোয়ার গোপনে তার গ্রামের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে মোবাইল ফোন চার্জ দিতে যান। বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিবেশীরা সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের লোকজনকে খবর দেয়।
আশেপাশে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে আনোয়ার পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে যাতে সে আর পালাতে না পারে। তাই গাছে দড়ি বেঁধে থানায় খবর দেন তিনি। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে আনোয়ার হোসেনকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তাকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার সকালে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হবে।