লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ভারত থেকে আসা বাঘের হামলায় এক নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরজন হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে বাঘটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এ সময় বাঘের হামলায় আহত হয়েছেন তিনজন।
আহতরা হলেন, আমঝোল গ্রামের শাহিদার রহমানের স্ত্রী শরিফা বেগম (৩০), একই এলাকার মৃত মনির হোসেনের ছেলে আফসার হোসেন (৪০) ও নজরুল ইসলাম। নজরুল ইসলামের পিতার নাম জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরিফা বেগম ধানক্ষেতে ছাগল খুঁজতে গিয়ে ঘাস খেতে দেখেন। পরে ছাগলের কাছে গেলে বাঘটি আক্রমণ করে। এ সময় বাঘের হামলায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-মেডিকেল কমিউনিটি অফিসার মামুন রহমান জানান, বাঘের হামলায় আহত তিনজন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোনাবিরুল হক মনা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাঘের হামলায় তিনজন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনকে রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে আসছেন।
বিজিবি জানায়, হাতীবান্ধা উপজেলার বাঁচৌকি বিওপির আমঝোল সীমান্ত দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে বাঘটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ১৫ বিজিবি অধিনায়কসহ বিজিবির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।
এদিকে বাঘটির বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বাঘের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
যোগাযোগ করা হলে বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম গণমাধ্যমকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।