সাভারে ১৩ বছরের মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় বাদীর বিরুদ্ধে ডাকাতির পাল্টা মামলা।

96975635ea00f4256e67779a9f9c73d9 6adfab144b5c4 96975635ea00f4256e67779a9f9c73d9 6adfab144b5c4
96975635ea00f4256e67779a9f9c73d9 6adfab144b5c4

১৩ বছর বয়সী মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলা শেষ হতে না হতেই বাদী ও নিহতের পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৭ লাখ টাকার পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়। সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের ছোট কালিয়াকৈর এলাকায় ‘তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসা’ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুটপাটের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল বারীর ছেলে বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলাটি করেন। উমায়ের তিনি নিজেকে মাদ্রাসার ‘প্রশাসনিক সহকারী’ হিসেবে পরিচয় দেন। মামলায় নিহতের পরিবারের সদস্যসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতি অনুযায়ী, বাদীর অভিযোগ- ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদল লোক মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ভাঙচুর চালায়। এই সময়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৭৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। এ ছাড়া অবকাঠামো ভাঙচুরের কারণে মাদ্রাসার কোটি কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার রাতে একই মাদ্রাসার ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সাভার মডেল থানায় প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল বারীর বিরুদ্ধে মামলা করেন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা। ওই ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আব্দুল বারীর স্ত্রীকে আটক করে আদালতে পাঠালেও মূল আসামি আব্দুল বারী এখনো পলাতক রয়েছে।

পাল্টা মামলার বাদী মো. উমায়ের দাবি, তার বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। সংগঠিত এবং উদ্দেশ্যমূলক। তিনি দাবি করেন, মাদ্রাসার মূল্যবান জমি ও জমি জোরপূর্বক দখলের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ ধরনের জঘন্য অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে হেফাজতে ইসলাম ও বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাক) শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতারা রোববার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখেন, মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি বিশেষ কোনো অপরাধ করলে তাকে বিদ্যমান আইনে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু সেই অভিযোগের অজুহাতে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

ধর্ষণ মামলার বাদীর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার লুটপাটের মামলাকে মামলাটিকে ভিন্ন খাতে মোড় নেওয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন স্থানীয় কেউ কেউ; অন্যদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও বড় ধরনের ক্ষতির অভিযোগ করছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলিশ মো দুটি মামলাই সমান গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, মূল ধর্ষণ মামলার তদন্ত পুরোদমে চলছে এবং অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে। এছাড়া মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি মামলাও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করা হবে। ধর্ষণ মামলার বাদী পাল্টা মামলার আসামি হলেও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া কাউকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা হবে না।

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Keep Up to Date with the Most Important News

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Press Nation Bangladesh