ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ: ঢাবি ছাত্রকে ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

283542218 286872426899157 4169403486491968189 N 0a0efce68d74f27d65ee5dbb762a6245 283542218 286872426899157 4169403486491968189 N 0a0efce68d74f27d65ee5dbb762a6245
283542218 286872426899157 4169403486491968189 N 0a0efce68d74f27d65ee5dbb762a6245

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে ৩০ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি মো. রফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সজিব চন্দ্র বণিক। ভিকটিমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শিকদার গুলজার আহমেদ। ভুক্তভোগীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

মামলার এজাহার থেকে উল্লেখ করে আদালত বলেন, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে আসামি তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে আসামি ভুক্তভোগীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধানমন্ডির একটি রেস্টুরেন্টের স্মোকিং জোনে নিয়ে প্রথম ধর্ষণ করে। সেই সময় আসামি গোপনে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখে এবং ব্ল্যাকমেইল করে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য করে।

পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট মধ্যরাতে আসামির প্রলোভনে ভুক্তভোগী ধানমন্ডির একটি হোটেলে যান এবং সেখানেও বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তারা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন। এরপর আসামি ভুক্তভোগীকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে এবং বিয়ের কথা বললে তার পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেবে না বলে নানা হুমকি প্রদান করে। ভুক্তভোগী এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর আপস-মীমাংসার জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হলেও আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী একই বছরের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন

একই বছরের ২০ অক্টোবর ভুক্তভোগীর মেডিক্যাল পরীক্ষায় দেখা যায়, শারীরিক সম্পর্কের আলামত বিদ্যমান, তবে তা সাম্প্রতিক বা জোরপূর্বক নয়। মেডিক্যাল বোর্ড ভুক্তভোগীর বয়স আনুমানিক ২০ বছর বলে নির্ধারণ করেছে।

পুলিশি তদন্তের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(খ) ধারায় চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বর্তমানে মামলাটি অভিযোগ গঠনের জন্য ঢাকার ৬ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।

চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল আসামি স্বেচ্ছায় ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার যুক্তিতে ১০ মে পর্যন্ত আদালত তাকে অন্তর্বর্তী জামিন দেন। পরবর্তীকালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

২৪ মে ট্রাইব্যুনাল থেকে পরবর্তীকালে পুনরায় জামিন নামঞ্জুর হলে আসামি হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেন। হাইকোর্ট আসামির চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা এবং আপস-মীমাংসার মৌখিক আবেদনের ভিত্তিতে তাকে শর্তসাপেক্ষ অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিলেন।

তবে নির্ধারিত তারিখে শুনানি শেষে দেখা যায়, আসামির পরীক্ষা শেষ হলেও কোনও আপস-মীমাংসা হয়নি। এরপর জামিন আবেদনের কোনও ভিত্তি না থাকায় হাইকোর্ট ১০ সেপ্টেম্বর আসামির জামিন আবেদন খারিজ করে রায় দেন এবং রায়ের অনুলিপি প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আসামিকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে আইন অনুযায়ী আসামিকে গ্রেফতারের জন্য বিচারিক আদালত আইন অনুসারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

পরে গত ১২ অক্টোবর এ রায় প্রকাশ করা হয়।

 

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Keep Up to Date with the Most Important News

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Press Nation Bangladesh