OPPO Find X10 রিভিউ- IPhone 16 এর দামে Oppo!

1366 2000 1366 2000
1366 2000

ক্রিসমাস সামনে রেখে OPPO বাজারে নিয়ে এসেছে তাদের নতুন প্রিমিয়াম স্মার্টফোন সিরিজ। আর আজকে আমাদের হাতে রয়েছে সেই সিরিজের সবচেয়ে সস্তা মডেল, OPPO Find X10। তবে দাঁড়ান, সস্তা বলেই আবার খুশি হয়ে যাবেন না! কারণ এই ফোনের দাম শুরু হচ্ছে ১,৩৯৯ ইউরো থেকে। বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে অঙ্কটা দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার কাছাকাছি। কর, শুল্ক আর আমদানি খরচ যোগ হলে বাংলাদেশে দাম আরও বেশি হতে পারে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, একটা ফোনের পেছনে এত টাকা খরচ করলে আপনি আসলে কী পাচ্ছেন? শুধু ভালো ক্যামেরা, শক্তিশালী প্রসেসর আর সুন্দর একটা ডিসপ্লে? নাকি এমন কিছু, যা ব্যবহার করার পর মনে হবে—হ্যাঁ, টাকা খরচটা সার্থক হয়েছে!

আমি কয়েক সপ্তাহ ধরে OPPO Find X10 ব্যবহার করার পর একটা বিষয় বুঝেছি। এই ফোনের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু এর স্পেসিফিকেশন নয়; বরং প্রতিদিনের ব্যবহারে এটি যেভাবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে, সেটাই আসল ব্যাপার। তবে ফোনটা ব্যবহার করতে গিয়ে আমার মাথায় একটা প্রশ্নও এসেছে—OPPO-র বেস মডেলই যদি এত ভালো হয়, তাহলে Pro মডেল কেনার প্রয়োজন আসলে কতটুকু?

চলুন, পুরো রিভিউতে বিষয়গুলো একটু খোলাসা করা যাক।

কাদের জন্য OPPO Find X10?

যারা কিনতে পারেন:

  • ছোট আকারের মধ্যে প্রিমিয়াম ফিলের একটি ফ্ল্যাগশিপ ফোন চান।
  • প্রতিদিন চার্জার খুঁজে বেড়াতে চান না।
  • ভালো ডিসপ্লে, জোরালো স্পিকার আর দারুণ ক্যামেরাকে গুরুত্ব দেন।
  • এমন একটি ফোন চান, যেটা অফিসের কাজ থেকে শুরু করে ভ্রমণ, ছবি তোলা—সবকিছুতেই নির্ভরযোগ্য হবে।

যাদের অন্য ফোন দেখা উচিত:

  • যারা কম দামে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স পেতে চান।
  • যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভারী গেম খেলেন এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স চান।
  • যারা হালকা ওজনের, হাতে ভালো গ্রিপ পাওয়া যায় এমন ফোন পছন্দ করেন।
  • যাদের কাছে প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের চেয়ে টাকার সঠিক ব্যবহার বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৩০ সেকেন্ডে OPPO Find X10

এক কথায় বলতে গেলে, OPPO Find X10 এমন একটি ফোন, যেটা ব্যবহার করার সময় বারবার স্পেসিফিকেশন চেক করার প্রয়োজন পড়ে না। স্ক্রিন ভালো, ক্যামেরা ভালো, ব্যাটারি ব্যাকআপ ভালো, আর দৈনন্দিন কাজেও ফোনটি বেশ সাবলীল।

তবে সবকিছুই যে একেবারে পারফেক্ট, তা নয়। বিশেষ করে এত দামি ফোনে গেমিং পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আবার ফোনের বডি বেশ পিচ্ছিল, আর বক্সে কভার না থাকায় শুরুতেই বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।

সব মিলিয়ে, ফোনটির বড় শক্তি হলো এর সামগ্রিক অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার জন্য আপনাকে যে পরিমাণ টাকা খরচ করতে হবে, সেটাও মাথায় রাখা জরুরি।

ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি: হাতে নিলেই প্রিমিয়াম ফিল

প্রথমেই আসি ডিজাইনে। OPPO Find X10 হাতে নিলে বোঝা যায়, কোম্পানিটি ফোনটাকে প্রিমিয়াম লুক দেওয়ার ব্যাপারে কোনো কার্পণ্য করেনি। উন্নত মানের উপকরণ, সুন্দর ফিনিশিং আর কমপ্যাক্ট ডিজাইন—সব মিলিয়ে ফোনটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়।

ফোনটির সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে, এটি অতিরিক্ত বড় নয়। বর্তমানে অনেক ফ্ল্যাগশিপ ফোন এতটাই বড় হয়ে যাচ্ছে যে এক হাতে ব্যবহার করা বেশ ঝামেলার। Find X10 সেই জায়গায় তুলনামূলক স্বস্তি দেয়।

Oppo Find X1 -Press Nation

এর সাইডে রয়েছে একটি প্রোগ্রামেবল স্ন্যাপ কী। নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী এই বাটনটি কাস্টমাইজ করা যায়, ফলে দ্রুত নির্দিষ্ট ফিচার চালু করার সুবিধা পাওয়া যায়। আর আল্ট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরও ফোনটিকে আরও প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা দেয়।

কিন্তু একটা সমস্যা আছে। ফোনটির বডি বেশ পিচ্ছিল। হাতে ঘাম থাকলে বা একটু অসাবধান হলেই পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এত দামি একটা ফোনের সঙ্গে বক্সে কভার না দেওয়াটাও হতাশাজনক।

আরেকটা বিষয় বলতেই হয়—ফোনটির ডিজাইনে OnePlus-এর পুরোনো ফ্ল্যাগশিপগুলোর কথা মনে পড়ে। একটা সময় OnePlus-এর পরিচিতি ছিল এমন ফোন তৈরির জন্য, যেগুলোতে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা পাওয়া যেত তুলনামূলক কম দামে। Find X10 সেই অভিজ্ঞতার কিছুটা মনে করিয়ে দেয়, যদিও এর দাম এখন আর কম বলা যাবে না।

ডিসপ্লে ও সাউন্ড: বিনোদনের জন্য দুর্দান্ত কম্বিনেশন

এবার আসি ডিসপ্লেতে। প্রায় ১,৪০০ ইউরো দামের ফোনের স্ক্রিন ভালো হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু OPPO Find X10-এর ডিসপ্লে শুধু ভালো বললে একটু কম বলা হবে।

এতে রয়েছে ৬.৫৯ ইঞ্চির ফ্ল্যাট ডিসপ্লে, যার রেজোলিউশন ২,৭৬৮ × ১,২৭২ পিক্সেল। অর্থাৎ, ভিডিও দেখা, ছবি এডিট করা কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করা—সব ক্ষেত্রেই আপনি শার্প ও পরিষ্কার ছবি পাবেন।

রঙের উপস্থাপন বেশ ভালো। অতিরিক্ত কৃত্রিম রঙ দেখিয়ে চোখে লাগার মতো অভিজ্ঞতা তৈরি করার পরিবর্তে ডিসপ্লেটি স্বাভাবিক রঙের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। বাইরে ব্যবহার করার সময়ও স্ক্রিন যথেষ্ট ভালোভাবে দেখা যায়।

রিফ্রেশ রেট সর্বোচ্চ ১২০ হার্টজ, আর নির্দিষ্ট গেমে এটি ১৪৪ হার্টজ পর্যন্ত যেতে পারে। ফলে স্ক্রলিং ও অ্যানিমেশন বেশ মসৃণ লাগে। তবে মনে রাখবেন, সব গেমে ১৪৪ হার্টজ পাবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই।

এবার সাউন্ডের কথা বলি। ফোনটিতে রয়েছে স্টেরিও স্পিকার, আর এর ভলিউম বেশ জোরালো। ভিডিও দেখা কিংবা গান শোনার সময় শব্দ পরিষ্কার থাকে এবং ভলিউম বাড়ালেও বিকৃতি তুলনামূলক কম।

পরীক্ষায় স্পিকারের সাউন্ড প্রেসার লেভেল ৮৯ ডেসিবেল পর্যন্ত পাওয়া গেছে। ফলে আলাদা স্পিকার ছাড়াও ফোনটি দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ভিডিও দেখা বা গান শোনার অভিজ্ঞতা বেশ ভালো হতে পারে।

এখানেই শেষ নয়। USB-C-এর মাধ্যমে ডিজিটাল অডিও আউটপুটের পাশাপাশি ফোনটিতে রয়েছে ডিসপ্লেপোর্ট আউটপুট। অর্থাৎ, উপযুক্ত কেবল বা অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করে মনিটরে ফোনের স্ক্রিন দেখানো যায়। এমনকি ডেস্কটপ মোডও ব্যবহার করা সম্ভব।

যারা ফোনকে শুধু বিনোদনের জন্য নয়, কাজের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করেন, তাদের কাছে এই সুবিধা বেশ কাজে লাগতে পারে।

পারফরম্যান্স: শক্তিশালী প্রসেসর, কিন্তু গেমারদের জন্য প্রশ্ন আছে

OPPO Find X10-এ ব্যবহার করা হয়েছে MediaTek Dimensity 9600M প্রসেসর। নাম দেখেই বোঝা যাচ্ছে, এটি ফ্ল্যাগশিপ শ্রেণির চিপসেট।

সাধারণ ব্যবহার নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো, ব্রাউজিং, ভিডিও দেখা, ছবি এডিট করা কিংবা ভারী অ্যাপ ব্যবহার—সবকিছুতেই ফোনটি ভালো পারফরম্যান্স দিয়েছে।

র‍্যাম ও স্টোরেজের অপশনও যথেষ্ট। ১২ জিবি বা ১৬ জিবি র‍্যামের সঙ্গে সর্বোচ্চ ১ টেরাবাইট স্টোরেজ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে অ্যাপ বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা স্টোরেজ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার সমস্যা হওয়ার কথা নয়, যদিও বাস্তবে সেটি আপনার ব্যবহার ও অ্যাপের ওপর নির্ভর করবে।

কিন্তু গেমিংয়ের ক্ষেত্রে একটু থামতে হবে।

ভারী গেম চালানোর সময় ফোনটি ভালো গ্রাফিক্স দিতে পারে এবং সর্বোচ্চ রেজোলিউশনে গেম চালানোর সক্ষমতাও দেখিয়েছে। সমস্যা হচ্ছে, দীর্ঘক্ষণ একইভাবে গেম খেললে পারফরম্যান্স ধরে রাখার বিষয়টি ততটা সন্তোষজনক নয়।

3DMark পরীক্ষায় ফোনটির স্ট্যাবিলিটি ছিল ৪৫ শতাংশ। সহজ ভাষায়, দীর্ঘ সময় ধরে চাপের মধ্যে কাজ করার সময় পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে। পরীক্ষার প্রায় দশ মিনিট পর কিছু পরিস্থিতিতে পারফরম্যান্স অনেকটাই কমে যাওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা হয়েছে।

Geekbench 7 পরীক্ষায় স্কোর ছিল সিঙ্গেল-কোরে ২,৪৩৫ এবং মাল্টি-কোরে ৭,৬৬২। পরীক্ষার ব্যবহৃত ফলাফলে Apple A19 Pro এবং Snapdragon 8 Elite Gen 5-এর তুলনায় এটি পিছিয়ে ছিল।

তবে একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলা দরকার—বেঞ্চমার্কের স্কোরই পুরো ফোনের অভিজ্ঞতা নয়। সাধারণ ব্যবহার, ক্যামেরা প্রসেসিং, অ্যাপ খোলা কিংবা মাল্টিটাস্কিংয়ের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য সব সময় একইভাবে বোঝা যায় না।

তাপমাত্রার দিক থেকে ফোনটি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরীক্ষার সময় সর্বোচ্চ ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, গরম একেবারেই হবে না, এমন নয়; তবে পরীক্ষায় তাপমাত্রা খুব বেশি অস্বাভাবিক পর্যায়ে যায়নি।

কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রেও রয়েছে 5G, Wi-Fi 7 এবং Bluetooth 6.2। কলের সময় নয়েজ ক্যানসেলেশন ভালো কাজ করেছে এবং অপর প্রান্তে কথা পরিষ্কার শোনার অভিজ্ঞতাও সন্তোষজনক ছিল।

আমার মতামত হচ্ছে, সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য ফোনটির পারফরম্যান্স যথেষ্ট ভালো। কিন্তু আপনি যদি প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা PUBG Mobile বা অন্য ভারী গেম খেলেন, তাহলে শুধু প্রসেসরের নাম দেখে ফোনটি কিনবেন না। দীর্ঘ সময়ের গেমিং টেস্ট এবং আপনার পছন্দের গেমে ফ্রেম রেট কেমন থাকে, সেটা যাচাই করা উচিত।

ব্যাটারি: একবার চার্জে কতক্ষণ চলবে?

এবার এমন একটা জায়গায় আসি, যেখানে OPPO Find X10 সত্যিই ভালো করেছে—ব্যাটারি।

ফোনটির ব্যাটারি ক্যাপাসিটি ৭,১৫০ mAh। চীনা সংস্করণে এর চেয়ে বড় ব্যাটারি থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এখানে কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তারপরও ব্যাকআপ নিয়ে পরীক্ষায় বড় কোনো সমস্যা হয়নি। সাধারণ ব্যবহার, সোশ্যাল মিডিয়া, ব্রাউজিং, ভিডিও দেখা এবং 5G ও Wi-Fi মিলিয়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্ক্রিন-অন টাইম প্রায় ৯ থেকে ১০ ঘণ্টার বেশি পাওয়া গেছে।

রাতে স্ক্রিন বন্ধ রেখে আট ঘণ্টা ফোনটি ব্যবহার না করলে ব্যাটারি কমেছে মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশের মতো, কখনো তারও কম। মাঝারি ব্যবহারে ফোনটি প্রায় তিন দিন চলেছে। আর ভ্রমণের সময় বেশি ব্যবহার করেও প্রায় দেড় দিন ব্যাকআপ পাওয়া গেছে।

অবশ্যই মনে রাখবেন, এগুলো নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফলাফল। আপনার স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা, নেটওয়ার্ক সিগন্যাল, গেমিং, ক্যামেরা ব্যবহার এবং ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপের ওপর ব্যাটারি ব্যাকআপ কমবেশি হবে।

চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে বেশ ভালো সুবিধা। ফোনটি সর্বোচ্চ ৮০ ওয়াট তারযুক্ত ফাস্ট চার্জিং এবং ৫০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং সমর্থন করে। এর পাশাপাশি রয়েছে রিভার্স ওয়্যারলেস চার্জিং।

পরীক্ষায় ফোনটি চার্জ হতে প্রায় এক ঘণ্টা বিশ মিনিট সময় নিয়েছে। তবে চার্জিংয়ের সময় চার্জারের ক্ষমতা, তাপমাত্রা ও ব্যাটারির বর্তমান চার্জের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।

এখানে একটা কথা বলা দরকার—বড় ব্যাটারি মানেই সব সময় সেরা ব্যাটারি অভিজ্ঞতা নয়। চার্জিং স্পিড, স্ট্যান্ডবাই ড্রেন এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ। Find X10 এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে বেশ ভালো ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছে।

সফটওয়্যার ও AI: ColorOS 17 কতটা কাজে আসে?

OPPO Find X10-এ রয়েছে Android 17-ভিত্তিক ColorOS 17। ইন্টারফেসটি আধুনিক, দেখতে সুন্দর এবং কাস্টমাইজেশনের সুযোগও বেশ ভালো।

আইকন, অ্যানিমেশন, হোম স্ক্রিন এবং বিভিন্ন সিস্টেম ফিচার মিলিয়ে সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বেশ পরিপাটি। তবে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই সফটওয়্যার ভালো হয়ে যায় না; দীর্ঘমেয়াদে আপডেট, বাগ এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

AI ফিচারের দিকেও OPPO বেশ জোর দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে MindPilot নামের একটি AI এজেন্ট, যা ChatGPT বা Manus-এর মতো মডেল ব্যবহার করতে পারে।

এই ধরনের ফিচার দিয়ে ফোনে কাজের কিছু ধাপ সহজ করা, তথ্য নিয়ে কাজ করা কিংবা নির্দিষ্ট কাজের জন্য AI-এর সহায়তা নেওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে MindPilot-এর কার্যকারিতা ইন্টারনেট সংযোগ ও সমর্থিত পরিষেবার ওপর নির্ভরশীল।

AI লেখা বা ছবি সম্পাদনার মতো ফিচার এখন অনেক ফোনেই দেখা যায়। তাই শুধু AI-এর নাম শুনে ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। দেখতে হবে, ফিচারগুলো বাস্তবে কতটা কাজে লাগে এবং ব্যবহার করতে গিয়ে কতটা সময় বাঁচায়।

সফটওয়্যারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আপডেট। OPPO-র উচিত এই দামের ফোনে দীর্ঘমেয়াদি Android ও নিরাপত্তা আপডেটের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া। এখানে অন্তত পাঁচ বছরের Android আপডেট এবং ছয় বছরের নিরাপত্তা আপডেটের নিশ্চয়তা থাকলে ক্রেতারা আরও আত্মবিশ্বাস পেতেন। তবে কেনার আগে নির্দিষ্ট মডেল ও অঞ্চলের জন্য OPPO-র আনুষ্ঠানিক আপডেট নীতি যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

ক্যামেরা: ভ্রমণে আলাদা ক্যামেরা না নিলেও চলবে?

এবার আসি ফোনটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশে—ক্যামেরা।

OPPO Find X10-এর পেছনে রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ৫০ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা এবং ২০০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা। সামনে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা।

তবে ক্যামেরা নিয়ে একটা ভুল ধারণা আগে ভেঙে দেওয়া দরকার। মেগাপিক্সেল যত বেশি, ছবি তত ভালো—বিষয়টা এত সহজ নয়। সেন্সরের আকার, লেন্স, আলো, ইমেজ প্রসেসিং এবং স্থিতিশীলতা—সবকিছু মিলেই ছবির মান নির্ধারণ করে।

Find X10-এর ক্ষেত্রে ভালো খবর হচ্ছে, তিনটি পেছনের ক্যামেরার মধ্যে রঙের সামঞ্জস্য বেশ ভালো। ফলে এক ক্যামেরা থেকে অন্য ক্যামেরায় গেলেই ছবির রঙ একেবারে বদলে যাওয়ার সমস্যা তুলনামূলক কম।

প্রধান ক্যামেরা

পর্যাপ্ত আলোতে প্রধান ক্যামেরা বেশ চমৎকার ছবি তুলতে পারে। ভবনের নকশা, গাছের পাতা এবং দূরের বস্তুর খুঁটিনাটি ভালোভাবে ফুটে ওঠে।

ছবির রঙ অতিরিক্ত উজ্জ্বল করে দেখানোর প্রবণতা কম। হোয়াইট ব্যালেন্স এবং এক্সপোজারও বেশ ভালোভাবে সামলানো হয়েছে।

তবে ছবি জুম করে দেখলে কিছু সূক্ষ্ম বিবরণ এবং কিনারার অংশে প্রসেসিংয়ের সীমাবদ্ধতা বোঝা যায়। অর্থাৎ, সাধারণভাবে ছবি দারুণ দেখালেও প্রতিটি পিক্সেলে নিখুঁত ডিটেইল আশা করা ঠিক হবে না।

আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা

গ্রুপ ছবি, বড় ভবন, পাহাড় কিংবা ভ্রমণের সময় বিস্তৃত দৃশ্য ধারণ করতে আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা বেশ কাজে আসে।

এই ক্যামেরায় রঙের সামঞ্জস্য ভালো। প্রধান ক্যামেরা থেকে আল্ট্রা-ওয়াইডে গেলেও ছবির রঙ খুব বেশি বদলে যায় না।

তবে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে আকাশের এক্সপোজারে পার্থক্য দেখা যেতে পারে। ছবির কিনারায় ডিটেইল কমে যাওয়া এবং কিছুটা বিকৃতিও চোখে পড়ে।

তাই আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরাটি কাজে দেবে, কিন্তু প্রধান ক্যামেরার সমান মানের ছবি সব পরিস্থিতিতে আশা করা উচিত নয়।

পেরিস্কোপ টেলিফটো ও জুম

এই ফোনের টেলিফটো ক্যামেরা বেশ আকর্ষণীয়। প্রায় ৬৫ মিলিমিটার সমতুল্য ফোকাল লেংথে, অর্থাৎ ২.৮ গুণ জুমে তোলা ছবিতে দূরের ভবন, ভাস্কর্য কিংবা অন্যান্য বস্তুর বিবরণ ভালোভাবে ফুটে ওঠে।

প্রায় ১৩০ মিলিমিটার বা ৫.৬ গুণ জুমেও ছবির মান ব্যবহারযোগ্য থাকে। রঙের বড় ধরনের অবনতি ছাড়াই অনেক খুঁটিনাটি ধরে রাখা সম্ভব হয়।

১০ গুণ জুমেও বেশ ভালো ছবি পাওয়া যায়। তবে এর বেশি জুম করলে সফটওয়্যার প্রসেসিংয়ের প্রভাব স্পষ্ট হতে থাকে।

আমার কাছে এই ক্যামেরার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, দূরের কোনো বিষয়ের ছবি তুলতে গেলেই যে ছবিটি একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে, তেমন নয়। ভ্রমণের সময় দূরের স্থাপনা, পাহাড় কিংবা রাস্তার ওপারের কোনো বিষয়ের ছবি তোলার জন্য এটি বেশ কার্যকর।

রাতের ছবি

রাতে ছবি তোলার ক্ষেত্রেও ফোনটি ভালো পারফরম্যান্স দিয়েছে। অন্ধকার রাস্তায় দেয়াল, মাটি এবং আশপাশের পরিবেশের বিবরণ বোঝা যায়। আলোর উৎস থেকে আসা উজ্জ্বল অংশগুলোও মোটামুটি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

তবে কম আলোতে পোস্ট-প্রসেসিংয়ের কারণে কিছু ডিটেইল হারিয়ে যেতে পারে। কখনো কখনো ছবিতে জলরঙের মতো একটা প্রভাবও দেখা যায়।

অর্থাৎ, রাতের ছবি ভালো হবে, কিন্তু সব পরিস্থিতিতে দিনের আলোর মতো নিখুঁত ডিটেইল পাওয়া যাবে না।

পোর্ট্রেট ও সেলফি

পোর্ট্রেট ছবিতে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার বেশ বিশ্বাসযোগ্য। সফটওয়্যারের মাধ্যমে বোকেহের মাত্রাও পরিবর্তন করা যায়। তবে কিছু ছবিতে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার একটু বেশি কৃত্রিম মনে হতে পারে।

সেলফি ক্যামেরার রঙ ও ত্বকের টোন স্বাভাবিক রাখার প্রবণতা ভালো। বিউটি মোড বন্ধ থাকলে মুখের খুঁটিনাটি অতিরিক্ত মসৃণ করে ফেলার প্রবণতাও কম।

চুল কিংবা জটিল ব্যাকগ্রাউন্ডের মতো কঠিন অংশে এজ ডিটেকশনে সামান্য ভুল হতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে সেলফি ও পোর্ট্রেটের মান সন্তোষজনক।

সব মিলিয়ে, যারা ভ্রমণ করেন, নিয়মিত ছবি তোলেন কিংবা একটি ফোন দিয়েই বেশির ভাগ ফটোগ্রাফির কাজ সারতে চান, তাদের জন্য Find X10 একটি শক্তিশালী বিকল্প হতে পারে।

OPPO Find X10-এর সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন

ডিসপ্লে

  • ৬.৫৯ ইঞ্চির ফ্ল্যাট ডিসপ্লে
  • রেজোলিউশন: ২,৭৬৮ × ১,২৭২ পিক্সেল
  • পিক্সেল ঘনত্ব: ৪৬২ পিপিআই
  • রিফ্রেশ রেট: ১–১২০ হার্টজ; সমর্থিত গেমে ১৪৪ হার্টজ পর্যন্ত
  • টাচ স্যাম্পলিং রেট: সর্বোচ্চ ২৮৮ হার্টজ
  • সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা: ২,০০০ নিট; সাধারণ উজ্জ্বলতা ৮০০ নিট
  • ১০-বিট কালার, প্রায় ১০৭ কোটি রঙ

ডিজাইন ও ওজন

  • মাত্রা: ১৫৬.৫১ × ৭৪.২৯ × ৮.৩৫ মিলিমিটার
  • ওজন: ২১৬ গ্রাম

প্রসেসর

  • MediaTek Dimensity 9600M
  • আটটি কোর
  • সর্বোচ্চ ক্লক স্পিড: ৪.২১ গিগাহার্টজ

র‍্যাম ও স্টোরেজ

  • র‍্যাম: ১২ জিবি / ১৬ জিবি LPDDR5X
  • স্টোরেজ: ২৫৬ জিবি / ৫১২ জিবি / ১ টেরাবাইট UFS 4.1

সামনের ক্যামেরা

  • ৫০ মেগাপিক্সেল
  • অ্যাপারচার: f/2.0
  • ১৮ মিলিমিটার সমতুল্য ফোকাল লেংথ
  • অটোফোকাস

পেছনের ক্যামেরা

  • প্রধান ক্যামেরা: ২০০ মেগাপিক্সেল, f/1.6, ২৩ মিলিমিটার, OIS
  • আল্ট্রা-ওয়াইড: ৫০ মেগাপিক্সেল, f/2.0, ১৫ মিলিমিটার, ১২০ ডিগ্রি ফিল্ড অব ভিউ, অটোফোকাস
  • পেরিস্কোপ টেলিফটো: ২০০ মেগাপিক্সেল, f/2.6, ৬৫ মিলিমিটার, OIS, ২.৮ গুণ অপটিক্যাল জুম
  • দ্বিতীয় প্রজন্মের Danxia কালার সেন্সর: f/2.4, ১৯ মিলিমিটার

ব্যাটারি ও চার্জিং

  • ৭,১৫০ mAh ব্যাটারি
  • ৮০ ওয়াট তারযুক্ত ফাস্ট চার্জিং
  • ৫০ ওয়াট ওয়্যারলেস চার্জিং
  • রিভার্স ওয়্যারলেস চার্জিং
  • সরবরাহকৃত সংস্করণে বক্সের সঙ্গে চার্জার

সফটওয়্যার

  • Android 17
  • ColorOS 17

কানেক্টিভিটি

  • 5G
  • Wi-Fi 7
  • Bluetooth 6.2
  • NFC
  • GPS L1+L5
  • BeiDou, GLONASS, Galileo, QZSS ও NavIC
  • USB Type-C, USB 3.2 Gen 1
  • DisplayPort আউটপুট

অন্যান্য ফিচার

  • আল্ট্রাসনিক ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর
  • ফেস আনলক
  • ইনফ্রারেড ব্লাস্টার
  • IP66, IP68 ও IP69 সুরক্ষা রেটিং
  • স্টেরিও স্পিকার

প্রারম্ভিক মূল্য

  • ১,৩৯৯ ইউরো

দাম অনুযায়ী OPPO Find X10 কতটা ভালো?

এবার আসল আলোচনায় আসি। কারণ ফোনটি যতই ভালো হোক, ১,৩৯৯ ইউরো দামটা কিন্তু মোটেও হালকাভাবে নেওয়ার মতো নয়।

বাংলাদেশি টাকায় সরাসরি হিসাব করলে এর দাম প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার কাছাকাছি হতে পারে। তবে বিনিময় হার, আমদানি শুল্ক, ভ্যাট এবং বিক্রেতার লাভ যোগ হলে বাংলাদেশের বাজারে দাম আরও বেশি হতে পারে।

এই দামে একজন ক্রেতা শুধু ভালো স্পেসিফিকেশন চান না। তিনি চান, ফোনটির প্রতিটি দিক যেন সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। ক্যামেরা, ব্যাটারি, ডিসপ্লে, সফটওয়্যার, গেমিং এবং দীর্ঘমেয়াদি আপডেট—সবকিছুতেই প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকবে।

Find X10 সেই প্রত্যাশার বেশির ভাগ পূরণ করতে পেরেছে। কিন্তু গেমিংয়ের সময় পারফরম্যান্সের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ফোনের বডিও পিচ্ছিল, আর সফটওয়্যার আপডেটের দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা কেনার আগে যাচাই করা দরকার।

অর্থাৎ, ফোনটির বড় কোনো দুর্বলতা নেই বললেই চলে, কিন্তু এর দামকে সবার জন্য যৌক্তিক বলা যাবে না।

আরেকটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে—একটি সিরিজের বেস মডেল ভালো হলেই Pro বা Ultra মডেল অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায় না। উন্নত ক্যামেরা, বাড়তি পারফরম্যান্স কিংবা বিশেষ কোনো ফিচার যদি আপনার কাজে লাগে, তাহলে বড় মডেল বিবেচনা করার কারণ থাকতে পারে। তবে শুধু নামের শেষে Pro লেখা আছে বলে বাড়তি টাকা খরচ করারও কোনো যুক্তি নেই।

আমার চূড়ান্ত মতামত

সবকিছু বিবেচনা করলে OPPO Find X10 এমন একটি ফ্ল্যাগশিপ ফোন, যেটি দৈনন্দিন ব্যবহার, ব্যাটারি, ডিসপ্লে, সাউন্ড এবং ক্যামেরার মধ্যে দারুণ ভারসাম্য তৈরি করেছে।

আপনি ফোন দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইন্টারনেট ব্রাউজ করেন, ভিডিও দেখেন, ছবি তোলেন কিংবা ভ্রমণের সময় একমাত্র ক্যামেরা হিসেবে ব্যবহার করতে চান—Find X10 আপনাকে ভালো অভিজ্ঞতা দিতে পারে।

এর ব্যাটারি ব্যাকআপ যথেষ্ট ভালো, ক্যামেরার জুম কার্যকর এবং ডিসপ্লে ও স্পিকার বিনোদনের জন্য চমৎকার। সফটওয়্যার ও AI ফিচারও ফোনটিকে আরও আধুনিক করে তুলেছে।

কিন্তু আপনি যদি মূলত গেমিংয়ের জন্য ফোন কেনেন, তাহলে দীর্ঘ সময়ের পারফরম্যান্স পরীক্ষা না করে সিদ্ধান্ত নেবেন না। আর যদি আপনার কাছে দাম অনুযায়ী সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে বাজারের অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপের সঙ্গে তুলনা করা উচিত।

আমার কাছে Find X10-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, এটি এমন একটি ফোন হওয়ার চেষ্টা করেছে যেটি দিয়ে প্রায় সব কাজই করা যায়। আলাদা করে কোনো একটি ফিচার নিয়ে বড়াই করার পরিবর্তে পুরো অভিজ্ঞতাকে ভালো করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

তবে একটা বিষয় পরিষ্কার—এটি সস্তা ফোন নয়, আর সস্তা ফোন হওয়ার চেষ্টাও করেনি।

আমি কি OPPO Find X10 কেনার পরামর্শ দেব?

আপনার বাজেট যদি সত্যিই এতটা হয় এবং আপনি একটি কমপ্যাক্ট, প্রিমিয়াম, ভালো ক্যামেরা ও দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপের ফোন চান, তাহলে অবশ্যই বিবেচনা করতে পারেন।

কিন্তু শুধু ভালো ফোন বলেই এটি সবার জন্য সেরা কেনাকাটা হবে না। কারণ ভালো ফোন আর ভালো ভ্যালু—দুটো এক জিনিস নয়।

OPPO Find X10 প্রথম শর্তটি বেশ ভালোভাবেই পূরণ করেছে। দ্বিতীয় শর্তটি পূরণ করেছে কি না, সেটি নির্ভর করছে আপনার বাজেট, ব্যবহার এবং একই দামে বাজারে আর কী কী বিকল্প রয়েছে তার ওপর।

আর আমার মতে, এই দামের ফোন কেনার আগে নিজেকে একটি প্রশ্ন করাই সবচেয়ে জরুরি—আমি কি সত্যিই এই ফোনের সব সুবিধা ব্যবহার করব, নাকি কম দামের একটি ভালো ফ্ল্যাগশিপ দিয়েই আমার কাজ হয়ে যাবে?

এই প্রশ্নের উত্তর যদি Find X10-এর পক্ষেই যায়, তাহলে ফোনটি আপনাকে হতাশ করার সম্ভাবনা কম।

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Keep Up to Date with the Most Important News

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Press Nation Bangladesh