গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে সাত বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ও পরবর্তীতে পাল্টাপাল্টি মামলায় নতুন নাটকীয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মুখে থাকা ভুক্তভোগী শিশুর বাবা শাহজালাল রুমি দাবি করেছেন, ইতিমধ্যে তিনি দেশ ছেড়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে তিনি নিজেই গণমাধ্যমে পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় (এসএমএস) এ তথ্য জানান। তবে বর্তমানে তিনি কোন দেশে অবস্থান করছেন? এ বিষয়ে বার্তায় স্পষ্ট করে কিছু উল্লেখ করেননি তিনি।
শাহজালাল রুমি ছোট বার্তায় লিখেছেন, ‘আমি আর এ দেশে নেই। যাইহোক, তাদের নিয়ে আর ভাবি না। তুমি ভালো আছো।’
একই বার্তায় তিনি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে উল্লেখ করেন, ‘পণ্ডিত হয়েও অনেক মিথ্যা বলেছেন এবং এখনো বলছেন।’
ঘটনার সূত্রপাত ২১ অক্টোবর। টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ‘কারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার’ শিক্ষক ও উপাধ্যক্ষ মুসলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাত বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানার পর শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন।
খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষক মুসলিম উদ্দিনকে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে পুলিশ শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। পরে ওই শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে নেট দুনিয়ায় তুমুল তোলপাড় ও বিতর্ক শুরু হয়।
ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি; ওই শিক্ষক কারাগারে যাওয়ার পর শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় পাল্টা মামলা করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসায় অননুমোদিত প্রবেশ ভাঙচুর ছাড়াও ১৭ লাখ টাকা চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ মামলার পর থেকে শাহজালাল রুমি জনতার আড়ালে চলে যান। বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ও আলোচনার মধ্যে সোমবার রাতে টেক্সট বার্তা পাঠিয়ে তিনি দেশত্যাগের দাবি জানান।
তবে তার বর্তমান অবস্থা বা তিনি বৈধভাবে দেশত্যাগ করেছেন কি না, দায়িত্বশীল কোনো সূত্র থেকে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।