রিয়াদের পর সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা ঘিরে পৃথক হামলা হয়েছে। এতে এক ভারতীয়সহ চারজন নিহত এবং দুই বাংলাদেশিসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুইজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। একই দিনে, আরামকোর শায়বাহ তেলক্ষেত্রকে লক্ষ্য করে একটি ড্রোন সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী গুলি করে ভূপাতিত করে, এতে আরও দুজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়।
দাম্মাম বিমানবন্দরে নিহতদের মধ্যে একজন সৌদি নাগরিক এবং অন্যজন ভারতীয় প্রবাসী। আহত আটজনের মধ্যে দুই বাংলাদেশি, দুই ভারতীয়, দুই ইয়েমেনি, একজন নেপালি ও একজন সৌদি নাগরিক রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আহত দুই প্রবাসী বাংলাদেশিরা হলেন কুমিল্লার বঙ্গবাজার থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সজল চন্দ্র দাস ও নোয়াখালী সদর থানার গোবিগল্লপপুর গ্রামের মোহাম্মদ আবদুর রহিম। বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আহতরা বর্তমানে দাম্মামের সৌদি-জার্মান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, শায়বাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা প্রতিহত করার পর ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি ঠিকাদারের গাড়িতে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায় নিহত দুজনের একজন ফিলিপাইনের নাগরিক এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক। আহত দুজনের একজন পাকিস্তানি তিনি একজন ভারতীয় নাগরিক। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে এই ঘটনাটি তেলক্ষেত্রের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়নি।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র বলেছেন, রিয়াদ ও মদিনার দিকে আসা চারটি ড্রোনকে আটক করে ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদি আরবে বিমানবন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে দাম্মাম বিমানবন্দরে সর্বশেষ হামলা কারা চালিয়েছে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি।