জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সাহেব অন্য সব মন্ত্রণালয়ে পারদর্শী হলেও নিজের মন্ত্রণালয় সামলাতে পারেন না।
তিনি বলেন, ‘সরকারি দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য নিজেই সংসদে বলেছেন, মাদকের সবচেয়ে বড় চালান আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়ে। দিনে ৫০টি ট্রাক ছিনতাই হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই ভয়াবহ অবনতি ধামাচাপা দেওয়ার দায় সরকার বিরোধীদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।’
রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে জুলাই মাসে জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধী দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যোগসাজশের সরকারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি নতুন বানোয়াট বক্তব্য তৈরি করছে। তারা বলছে আমরা পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টদের সাথে হাত মেলাচ্ছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো আপনি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের কাছে ভোট চেয়েছিলেন। শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, এখন ভোট কারচুপি হচ্ছে। তাদের দলের নেতারা আরও বলেন, ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে তারা জয়ী করেছে। এমনকি নাটোরের সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ জানালেও নিজ দলকে ধন্যবাদ দিতে পারছেন না।’
সরকার ও প্রশাসনে পতিত দলগুলোর পুনর্বাসনের অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডারদের সমাজ ও দলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হচ্ছে। অন্যদিকে সীমান্ত থেকে আসা অর্থ ও অস্ত্রের জন্য প্রতিপক্ষকে দায়ী করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সীমান্ত দিয়ে টাকা, অস্ত্র ও মাদক প্রবেশ করলে সরকার তা বন্ধ করতে পারছে না কেন? যে সরকার তার সীমানা সুরক্ষিত করতে পারে না তার ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই।’
দ্রব্যমূল্য ও লাগামহীন চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘চাঁদাবাজদের কারণে জনগণকে এক টাকার জিনিস তিন টাকায় কিনতে হচ্ছে। পঞ্চগড়ে দাম না পেয়ে কৃষকরা এক টাকায় চারটি লাউ বিক্রি বা ফেলে দিচ্ছেন, আর ঢাকার সাধারণ মানুষকে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় একটি লাউ কিনতে হচ্ছে। চাঁদাবাজির এই নিষ্ঠুর বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর করের মতো চেপে বসেছে।’
জামায়াতের আমির বলেন, “যে প্রতিষ্ঠানটি কয়েক দশক ধরে সেবা করেছে, সেই প্রতিষ্ঠানে রাতের আঁধারে হামলা ও লুটপাট করা হয়েছে। অপরাধের জন্য দলীয় এমপিকে পদত্যাগ করে দায় এড়ানো হয়েছে। কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হলো না? প্রশাসন কি শুধু ‘হোয়াইটওয়াশ’ করতে চায়?”
তিনি আরো বলেন, চাঁদাবাজি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিএনপির সাধারণ কর্মীরাও নিজ দলের চাঁদাবাজদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।