মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চার বছরের শিশু তোয়াবা ও তার বাবা গোলাপ হোসেনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
বুধবার রাতে নানার বাড়ি থেকে মেয়েকে নিয়ে নানার বাড়িতে যাওয়ার পথে গোলাপের ওপর হামলা হয়। এ সময় বাবা-মেয়ের বিচ্ছেদ হয়। গুরুতর আহত গোলাব বাড়ি ফিরে গেলেও শিশু তোবা নিখোঁজ ছিল। পরে বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের একটি ইটভাটার পাশের জঙ্গল থেকে শিশুটির গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার বাবা মারা যান।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে সিরাজদিখান উপজেলার রামকৃষ্ণদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গোলাপ হোসেন সিরাজদিখান উপজেলার লতাবদী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদী গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে একই ইউনিয়নের দোসারপাড়া এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন তিনি। পেশায় দিনমজুর গোলাপ বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
দীর্ঘদিনের জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন বাবা ও মেয়েকে হত্যা করেছে বলে স্বজনদের অভিযোগ। এ ঘটনায় সোহরাব হোসেন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও গোলাপের পরিবারের সদস্যরা জানায়, গোলাপ হোসেন তার চাচাতো বোনকে বিয়ে করেন। তার শ্বশুর ও নানী-দাদীর বাড়ি একই এলাকায়। নানা বাড়ির জমি নিয়ে গোলাপের মামার সঙ্গে প্রতিবেশী সোহরাব হোসেনের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলাও রয়েছে। জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।
স্বজনরা জানায়, বুধবার বিকেলে মেয়ে তোয়াবাকে নিয়ে রামকৃষ্ণদী গ্রামে বাবার বাড়িতে যায় গোলাপ। এশার নামাজের পর মেয়েকে নিয়ে দোসারপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় সোহরাবের লোকজন ইতাবাটা এলাকায় তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। বাবা মেয়ে আলাদা হয়ে গেল।
হামলায় গুরুতর আহত গোলাপ কোনোমতে বাসায় ফিরলে স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। এরপর তাকে কেরানীগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে রাতে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তোয়াবার সন্ধান পায়নি স্বজনরা। বৃহস্পতিবার সকালে রামকৃষ্ণদী গ্রামের একটি বাড়িতে শিশুটির গলা কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। অপরদিকে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে গোলাপের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
গোলাপের মা হাসু বেগম বলেন, সোহরাবরা আমার ভাইদের সম্পত্তি নিয়ে গেছে। আমার ভাইয়েরা মামলা করায় তারা আমার ছেলেকে কয়েকবার মারধর করেছে। কয়েকবার আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টাও করেছে। আমার ছেলে নাতনিকে নিয়ে বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিল, এমন সময় সোহরাব একদল নিয়ে হামলা করে দুজনকে হত্যা করে।’
তিনি বলেন, ‘একটু জমির জন্য তারা আমার ছেলে ও নাতনিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’
এ ঘটনায় অভিযুক্ত সোহরাব হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ হেফাজতে থাকায় অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য তাকে পাওয়া যায়নি।
মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হাসান জানান, শিশু তোবার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গোলাপ জীবিত থাকা অবস্থায় সোহরাবসহ অন্যদের হামলায় জড়িত থাকার কথা জানান। সোহরাবকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।