Latestসাজেকে অবরোধকারীদের হামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৬ সদস্য আহত: পুলিশ সুপার
প্রযুক্তি

রাতেই দেখা মিলবে মহাজাগতিক বিস্ময়ের, সাক্ষী হবে বাংলাদেশও

Perseid Meteor Shower
Perseid Meteor Shower
Share · FacebookShare · X

মহাজাগতিক বিস্ময় বলা হয় উল্কাপাতকে। অক্টোবরের রাতের আকাশে চোখ ধাঁধানো এই দৃশ্যের অপেক্ষা। হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর অতিক্রমের ফলে তৈরি ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির দেখা মিলতে পারে বাংলাদেশ থেকেও। ২১ ও ২২ অক্টোবর রাত এই উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সক্রিয়তার সময়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত উল্কা দেখার সুযোগ রয়েছে।

প্রতিবছর অক্টোবর মাসে পৃথিবী হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া কণার বলয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়। রাতের আকাশে দ্রুতগতিতে ছুটে যাওয়া আলোর রেখা তৈরি করে এসব কণা। ওরিয়ন নক্ষত্রমণ্ডলের দিক থেকে উল্কাগুলো ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায় বলে এর নাম ওরিওনিড।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২১ অক্টোবর মধ্যরাতের পর থেকে ভোর পর্যন্ত উল্কাবৃষ্টি দেখার ভালো সুযোগ থাকবে। তবে আকাশে প্রায় ৭৪ শতাংশ আলোকিত চাঁদ থাকায় উজ্জ্বল চাঁদের আলোয় অপেক্ষাকৃত ম্লান উল্কাগুলো দেখা কঠিন হতে পারে। চাঁদের আলো কমে যাওয়ার পর ভোরের আগের কয়েক ঘণ্টায় তুলনামূলক অন্ধকার আকাশে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বাড়বে।



ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির উৎস হ্যালির ধূমকেতু, যা প্রায় ৭৬ বছর পরপর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। ধূমকেতুটিকে পৃথিবী থেকে শেষবার দেখা গিয়েছিল ১৯৮৬ সালে। আবার এটি আকাশে দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ২০৬১ সালে। হ্যালির ধূমকেতুর অবশিষ্টাংশ থেকে তৈরি বছরে দুটি পরিচিত উল্কাবৃষ্টির একটি ওরিওনিড। অন্যটি মে মাসে দেখা যায় ইটা অ্যাকুয়ারিডস নামে।

এই উল্কাবৃষ্টি দেখতে দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা বিশেষ কোনো সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই। তবে খোলা জায়গা এবং পরিষ্কার আকাশ বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। শহরের উজ্জ্বল আলো থেকে দূরে নিরিবিলি স্থানে অবস্থান করলে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বাড়বে। চোখকে অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে।

ওরিওন নক্ষত্রমণ্ডলের উজ্জ্বল লাল তারা বেটেলজিউসের আশপাশের আকাশ থেকে উল্কাগুলো ছুটে আসছে বলে মনে হতে পারে। হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া কণাগুলো ঘণ্টায় প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষে সেগুলো উত্তপ্ত হয়ে জ্বলে ওঠে এবং রাতের আকাশে প্রাকৃতিক আতশবাজির মতো আলোর রেখা তৈরি করে।

সূত্র: স্পেস ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Press Nation Bangladesh