মাদারীপুরের শিবচরে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তাইজুল ইসলামকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা শাখা। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দলীয় বিধি মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে শিবচর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইউসুফ হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় নীলখী ইউনিয়ন শাখা সংশ্লিষ্ট তাইজুল ইসলামের অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ প্রকাশের বিষয়টি উপজেলা শাখার নজরে আসে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতা সংস্থার দ্বারা অত্যন্ত মূল্যবান। দলীয় আদর্শ ও নীতির পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়। এরই অংশ হিসেবে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও অভিযোগ পর্যালোচনার লক্ষ্যে তাইজুলকে উপজেলা শাখার আওতাধীন সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শিবচর উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সারোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অনেকেই জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেন। উপজেলা সদর থেকে নীলখী ইউনিয়ন অনেক দূরে হওয়ায় সেখানে দলীয় দাওয়াত ও প্রচারণার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাইজুলকে। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের কারণে স্থানীয় লোকজন তাকে ইউনিয়ন সভাপতি হিসেবে বিবেচনা করে। অভিযোগ জানার পরপরই তাকে সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) শিবচরের নীলখি ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে তাইজুলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন সোমবার থেকে এক নারীর সঙ্গে তার কথিত আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।
তাইজুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সংশ্লিষ্ট নারীকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন বলে জানা গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।