ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জীবন-মরণ ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগের রাতে বাংলাদেশ দলের কয়েকজন ক্রিকেটারকে দুবাইয়ের শপিং মলে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। তাদের স্বর্ণের দোকানেও দেখা গেছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ক্রিকেটারদের পেশাদারিত্ব ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচের প্রাক্কালে কেনাকাটার জন্য হোটেল থেকে বেরিয়েছিলেন তিন ক্রিকেটার। রাতে তারা হোটেলে ফিরে আসেন। কেনাকাটার পাশাপাশি তারা কয়েক কিলোমিটার ঘুরে মাছ খেয়েছেন। তবে দেশের ক্রিকেটে এমন ঘটনা নতুন নয়। এর আগে এশিয়ান গেমসের সময় বিনা অনুমতিতে গ্রামের বাইরে যাওয়ার অপরাধে তিন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। টাকা জরিমানা। তবে মঙ্গলবারের ঘটনা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ক্রিকেট বোর্ড।
মাঠের বাইরের এই বিতর্কের পাশাপাশি মাঠে বাংলাদেশের ব্যর্থতাও ছিল দৃশ্যমান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ মাত্র 172 রানে অলআউট হয়ে 99 রানে হেরে যায়। পরের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দলটি। মাত্র 160 রানে অলআউট হওয়ার পর, আফগানিস্তান 87 বল হাতে রেখে সাত উইকেটে জিতেছিল। টানা দুই হারে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। দেশের বাইরে খেলা শেষ ১৬টি ওডিআইয়ের মধ্যে ১৪টিতে পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি দলটি।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তাওহীদ হৃদয়। তার মতে, বিদেশে ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় মানসিকতাও ভূমিকা রাখে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দ্রুত খাপ খাওয়ানো এবং চাপের মধ্যে দায়িত্বশীলভাবে খেলার ওপর জোর দেন তিনি। হৃদয় বলেছেন, ‘গত দুই ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা খুব খারাপ খেলেছে, যার খেসারত দিতে হয়েছে পুরো দলকে। ব্যাটিং ইউনিট সামগ্রিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ঘরের মাঠে আমরা বেশ কিছু সিরিজ দারুণ শক্তিতে জিতেছি, কিন্তু বিদেশের মাটিতে আমাদের পারফরম্যান্স ভালো যাচ্ছে না। আমাদের ব্যাটিং ইউনিটে উন্নতির অনেক জায়গা আছে বিশেষ করে বিভিন্ন কন্ডিশনে খেলার সময়।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ের চিত্র আরও স্পষ্ট ছিল। ৭ ওভার শেষ হওয়ার আগেই ২৮ রানে চার উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। শান্ত উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে আসেন তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন। সৌম্য সরকার ইনসাইড এজে বোল্ড হন, হৃদয়ও সাজঘরে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এমনকি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও দল ভালো শুরু করলেও দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। একপর্যায়ে ১২৯ রানে সাত উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
তবে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার কারণে পুরো দলকে বিচার করতে রাজি নন হৃদয়। তার মতে, ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের মতো প্রতিপক্ষকে হারানোর ক্ষমতা বাংলাদেশের আছে। চলতি বছরের শুরুতে দেশের মাটিতে টানা তিন সিরিজে সাফল্য পায় দলটি। কিন্তু বিদেশের মাটিতে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছে না ব্যাটাররা। যাইহোক, আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য 2027 সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের অনেক আশা রয়েছে। তবে সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে কোনো কমতি নেই দলটির।