নাটোরের বড়াইগ্রামে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও বালু বোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই গাড়ির চালকসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৩০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে দুর্ঘটনার পরপরই প্রাথমিকভাবে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হলেও মরদেহ গণনা ও তাদের পরিচয় যাচাইয়ের পর স্থানীয় প্রশাসন মৃতের সংখ্যা ১২ বলে নিশ্চিত করে।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে মহাসড়কে এ রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা ঘটে। কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী একটি যাত্রীবাহী বাস বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনাগামী একটি বালু বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। পরে মরদেহ শনাক্ত করে সরকারি তালিকা তৈরির পর দুর্ঘটনায় মোট ১২ জনের প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানান, তীব্র সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত অন্তত ৩০ জনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মহাসড়কে অন্য যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত আরপি পরিবহনের বাসটির ফিটনেস সনদ ছিল না। মঙ্গলবার বিকেলে নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনি আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, বিআরটিএ রেকর্ড অনুযায়ী চলতি বছরের ১৩ মে বাসটির ফিটনেস মেয়াদ শেষ হয়েছে। যাইহোক, যানবাহনের রুট পারমিটটি 2028 সাল পর্যন্ত বৈধ। স্থানীয়রা কীভাবে দূরপাল্লার মহাসড়কে এই ধরনের অযোগ্য, রিকেটযুক্ত যানবাহন চলাচল করছে তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতের নেতৃত্বে সাত সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে সার্বিক তদন্ত শেষ করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ, জেলা প্রশাসক সুমনি আখতার, পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ করে আর্থিক অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন।
