শরীয়তপুরের নড়িয়ায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে দলের সহযোগী সংগঠনের চার নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। আহত চারজনের মধ্যে একজনের পা ভেঙে গেছে। তাদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। মারধরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে শনিবার রাতে নদীয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বৈশাখীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নদিয়া পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সালাহউদ্দিন ছায়াল তার সহযোগীদের নিয়ে চার নেতার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যবসায়িক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন- নড়িয়া উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নোমান চোকদার, নড়িয়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজুল শিকদার ও পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজীব দেওয়ান।
নড়িয়া উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নোমান চোকদার, মাসুদ খান, তাজুল শিকদার ও রাজীব দেওয়ান ঠিকাদারী ও জমি ব্যবসার সাথে জড়িত। এসব ব্যবসা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সালাহউদ্দিন ছায়ালের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল।
সূত্র জানায়, বিরোধের জেরে শনিবার সন্ধ্যার পর সালাহউদ্দিন ছায়াল ওই চার নেতাকে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বৈশাখীপাড়া এলাকায় ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর সালাউদ্দিনের ২০ থেকে ২৫ সমর্থক তাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের মারধর করা হয়।
স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে রাতেই শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন চয়ন শনিবার রাতে মুঠোফোনে বলেন, দল ক্ষমতায় আসার পর নোমান চোকদার ও মাসুদ খান তার কাছে এসে বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজ ও জমি কেনাবেচা করার প্রস্তাব দেয়। এর জন্য তার কাছে বিনিয়োগের টাকা চাই।
গত চার মাসে দুই কিস্তিতে ৪৪ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তারা বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করলেও লাভের অংশ তাকে দেয়নি। তিনি বিনিয়োগের টাকা ফেরত দেননি। শনিবার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা না দিয়ে নানা অজুহাত দেখাচ্ছিল তারা।
সালাহউদ্দিন চয়ন আরো বলেন, তখন তাদের সঙ্গে আমার তর্কাতর্কি হয়। ওই সময় আমার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে তারা ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি করে। আমি তাদের থামানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমি পারিনি।
৫০ লাখ টাকার অভিযোগ
নড়িয়া উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক নোমান চোকদার জানান, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সালাউদ্দিন ছায়াল তাদের ফোন করেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তার মতে, সালাহউদ্দিনের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। কেন তাদের মারধর করা হয়েছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
নড়িয়া পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদ খান জানান, সালাহউদ্দিন ছায়াল তাকে ফোন করে নোমান চোকদারকে বৈশাখীপাড়া এলাকায় যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর সালাহউদ্দিনসহ কয়েকজনের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা মারধর শুরু করে। মাসুদ খানের অভিযোগ, তাদের একজন তাকে বন্দুক দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তমাল কুমার দাস জানান, রাতে মারামারিতে আহত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চলছে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
তিনি বলেন, এক্স-রে করে নিশ্চিত হওয়া গেছে একজন তাজুলের বাম পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের চিকিৎসক মো. তিনি এলে রোগীর পায়ের চিকিৎসা শুরু করা হবে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, বিএনপির এক পক্ষ আরেক পক্ষের কয়েকজনকে মারধর করেছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।