দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট ৭০ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও কেউ পাস করতে পারেনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল তালিকায় এ চিত্র দেখা গেছে।
তালিকা অনুযায়ী, রৌমারী উপজেলার চর শৈলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ থেকে শূন্য পাসের তালিকায় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। নাগেশ্বরী মডেল কলেজ থেকে ১৫ জন, সিঙ্গার ডাবরীরহাট কলেজ, রাজারহাট থেকে ১০ জন এবং সিঙ্গার ডাবরীরহাট বিএল হাইস্কুল ও কলেজ থেকে ৬ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
এছাড়া নাগেশ্বরীর কুটি পায়রাডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচজন, শিলাখানা মডেল কলেজের চারজন, উলিপুরের হযরত ফাতেমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিনজন, চিলমারীর দক্ষিণ খাউরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুইজন এবং রাজারহাটের পাঙ্গারানী লক্ষ্মী প্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
ফলাফলের তালিকায় দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
এদিকে কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক ফলাফলও হতাশাজনক। এ বছর জেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় ১১ হাজার ৭২২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করেছে ৪ হাজার ৭৭৩ জন। জেলায় গড় পাসের হার ৪০.৭২ শতাংশ।
জেলায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের পাসের হার বেশি। পাঁচ হাজার ৬৮৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, 6,039 জন ছাত্রীর মধ্যে পাসের হার 45.21 শতাংশ। এ বছর জেলায় মোট ১৩৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাদের মধ্যে 59 জন পুরুষ এবং 77 জন মহিলা।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন আট জেলার মধ্যে পাসের হারে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে কুড়িগ্রাম।
উলিপুরের হযরত ফাতেমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজ রহুল আমিন জানান, তার প্রতিষ্ঠানের তিনজন পরীক্ষার্থীই বিবাহিত। পারিবারিক চাপের কারণে তারা ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারেনি। আমরা চাই সবাই পাস করুক। কিন্তু শিক্ষার্থীরা আগ্রহী না হলে ভালো ফল পাওয়া কঠিন।
এ ব্যাপারে সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আবদুল হাই সিদ্দিকী বলেন, তারা সাধারণ মাধ্যমিক শাখার কার্যক্রম দেখভাল করেন। উচ্চ মাধ্যমিক শাখা সরাসরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে। এ কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত ফলাফল সম্পর্কে তারা অবগত নয়।