নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গুরুদাসপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আব্দুল হান্নানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখার আলম জানান, বুধবার (২৮ অক্টোবর) জনস্বার্থে তাকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নাটোর জেলায় কর্মরত নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল হান্নানকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকবে। মঙ্গলবার রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ আদেশে স্বাক্ষর করেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল আজিজের ছেলে ও গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান মিন্টুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় যুবদল এ সিদ্ধান্ত নেয়।
কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের এক কমরেডের প্রাণহানির মতো গুরুতর কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান মিন্টুকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন। বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো অপকর্মের জন্য দল দায়ী থাকবে না। তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখতে যুবদলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে গুরুদাসপুর শহরের চাঁচকৈদ বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা কয়েকজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তের হাতে হামলা চালায় শাকিল ইসলাম। এ সময় হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত শাকিলকে উদ্ধার করে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় (১৯ অক্টোবর) শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রি বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। সোমবার রাত ১০টার দিকে গুরুদাসপুর বাজারের একটি ভাড়া বাসা থেকে এমপির ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে আটক করে পুলিশ। পরদিন মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়। বিজ্ঞ আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।