তাৎক্ষণিকভাবে ওসি ও এসপিকে জানিয়েছি, বাদীর দেওয়া নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাত আসামিদের নামে মামলা করতে বলা হয়েছে। যদি দেখা যায় তদন্তে নাম আসা বাদীদের নাম আসেনি, আপনি চূড়ান্ত রিপোর্ট দেবেন কিন্তু বাদীদের নাম বাদ দেবেন। এটা বেআইনি, আপনি এটা করতে পারবেন না। আমি ক্ষুব্ধ বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে বৃষ্টিতে নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিলের কবর জিয়ারত শেষে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পুতুল বলেন, আমি শাকিলকে পিজি হাসপাতালে দেখতে গেলে তার বাবা আমাকে বলেন, পুলিশ খুব অবহেলা করছে। পুলিশ জবানবন্দি সংগ্রহ করলে আমরা অনেক দ্রুত জানতে পারতাম।
ছাত্রদল নেতার পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আরেকটি বিষয় চাই, কেউ যেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে। জানাজা শেষে যে ঘটনা ঘটেছে, কোথাও কোথাও ভাঙচুরের ঘটনা যেন আর না ঘটে। যে কোন মূল্যে এই হত্যার বিচার হবে ইনশাআল্লাহ। আর একজন অপরাধী যেই হোক না কেন একজন অপরাধী। তার কোনো দল নেই, তার কোনো দেশ নেই, তার কিছু নেই। ইনশাআল্লাহ তার শাস্তি হবে।
তিনি আরও বলেন, হয়তো অনেকেই চেয়েছিলেন তিনি যেন না হন। কারণ থাকলে নামগুলো দ্রুত চলে আসত। আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করুন। কিন্তু আমাদের বুকে একটা বোঝা রয়ে গেছে, যা বিচার না করা পর্যন্ত তোলা হবে না।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইফতে খায়ের আলম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানাবো।
এর আগে বিকেল ৩টার দিকে গুরুদাসপুরে সংঘর্ষে নিহত শাকিলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রাকিব। এরপর তিনি বলেন, নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যার সঙ্গে আমেরিকা প্রবাসী রাসেল ও তার বাহিনী সরাসরি জড়িত। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানিয়েছি, আমরা বিশ্বাস করি তারা যথেষ্ট প্রমাণ পেয়েছে। এমপিপুত্রও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি বলেন, শাকিলকে হত্যার জন্য আমেরিকা প্রবাসী রাসেল তার বাহিনীকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিল। তাই রাসেল ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করছি। এমপিপুত্রও সন্দেহের বাইরে নন, তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, উপজেলা ছাত্রদল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুরের চাঁচকোড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরা সন্ত্রাসীরা ছাত্রদল নেতা শাকিলকে গুলি করে ও কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শাকিলের বাবা বাদী হয়ে মামলা করলেও গ্রেপ্তার হয়নি। শাকিল হত্যার বিচারের দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে নাটোর ও গুরুদাসপুরের রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তরুণ এই নেতার নির্মম মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে, পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
জনগণের বিক্ষোভের মুখে সোমবার গভীর রাতে নাটোরের গুরুদাসপুর বড়াইগ্রাম আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে গ্রেফতার করে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ২৭ অক্টোবর রাতে পৌর ছাত্র সংগঠনের সদস্য সচিব শাকিলের মরদেহ ঢাকা থেকে দ্বিতীয় জানাজায় গুরুদাসপুর বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে আনা হলে বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। জানাজায় অ্যাপ আজিজ কথা বলতে শুরু করলে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকে, পরে শাকিলের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা বললে তিনি জনতার ওপর ক্ষিপ্ত হন। ভূয়া ভূয়া স্লোগানে চারদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও ছেলের ফাঁসি হলেও জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এমপি আজিজ।
এরপর মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে একদল মুখোশধারী চাঁচকোড় বাজারের শপিং মলে হামলা চালায়।