জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রধান সংগঠক (দক্ষিণ) হাসনাত আবদুল্লাহ জুলাই সনদ ছাড়াই রাষ্ট্র পরিচালনাকে একটি অযোগ্য গাড়িতে চড়ার সাথে তুলনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনকল্যাণের পরিবর্তে রাষ্ট্রকে ব্যবসায়িক স্বার্থের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত ‘জুলাই সনদের এক বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার উদযাপন’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ২১ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খা বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রের সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন সময়ের দাবি। তাদের অভিযোগ, জুলাইয়ের সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার এ থেকে সরে যাচ্ছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং জুলাইয়ের সনদের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘন করেছে। সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি ছিল সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায় কার্যকর করা।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের সনদের মূল চেতনাকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হলে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার জোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া বক্তব্য রাখেন।
সভাপতির বক্তব্যে মঞ্জু বলেন, জুলাই মাসের সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের সরকারের আশ্বাস শুনে জাতি বিরক্ত। সরকার এত দ্রুত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাবে তা তারা কল্পনাও করেননি।
তিনি বলেন, বিএনপি নিজেরাই দাবি করেছে যে জুলাই মাসে তাদের ৮৪৮ কর্মী শহীদ হয়েছেন। শহীদদের রক্ত ও জীবনের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে সরকারের উচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা।
মঞ্জু আরো বলেন, শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি পালন না করার ফল ভোগ করেছেন। বিএনপি যেন একই ভুল না করে। জুলাইয়ের সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব এবং সাত দফা প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যার বেশিরভাগই বিএনপির ৩১ দফা ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি এমন আচরণ করছে যেন তাদের ওপর জুলাইয়ের সনদ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জনগণ কী চায় তা সরকারের বোঝা উচিত। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বারবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব।
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন কার্ড বিতরণের কারণে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলে অভিযোগ করেন আলী আহমেদ।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের রূপরেখা। রাষ্ট্র সংস্কারের ব্যর্থতার কারণে ছাত্ররা গণঅভ্যুত্থানে এগিয়ে আসে।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের সনদ ও গণভোটের রায় নিয়ে বিএনপি দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েছে। সরকার গঠনের ফলাফল মেনে নিলেও গণভোটের রায় উপেক্ষা করছে দলটি। জুলাইয়ের সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে, না হলে সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে সংকট আরও গভীর হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, জুলাই সনদ ২০২৪ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লিখিত রাজনৈতিক দলিল। এর মূল লক্ষ্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর ও গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন মূল দায়িত্ব তা বাস্তবায়ন করা। সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংবিধানের অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক সংকট রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে হবে এবং এবি পার্টি এর জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।