বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিগত আওয়ামী সরকার কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটের জন্য ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। জবাবদিহিতার কারণে বর্তমান সরকারের অধীনে এমন সুযোগ নেই।
বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির অডিটোরিয়ামে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ক্যাব যুব সংসদ আয়োজিত ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও শৈলকুপা পৌর এলাকায় ছাদ-টপ সোলার পাওয়ার ফিজিবিলিটি ভেরিফিকেশন অ্যান্ড লাইফলাইন কাস্টমার সার্ভে’ শীর্ষক গণসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, দেশে শতভাগ বিদ্যুতের কথা বলা হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চল ও চারণভূমির বহু মানুষ এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
আবার অনেক দরিদ্র পরিবার বিদ্যুৎ ভাগ করে নেয়। তাই শুধু বিদ্যুৎ খরচের পরিমাণ দিয়ে দরিদ্র মানুষের প্রকৃত অবস্থা নির্ণয় করা কঠিন।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দারিদ্র্য নির্ধারণে প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। এ বিষয়ে আয়োজকদের গবেষণা জরুরি। গবেষণার মাধ্যমে নতুন ধারণা ও প্রশ্নের উদ্ভব হওয়া দরকার। যেকোনো পরিসংখ্যানকে পরম সত্য হিসেবে না নিয়ে যাচাই করা জরুরি।
ছাদে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা তুলে ধরে রিজভী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিপুল বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এ খাতে আগ্রহী। নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বে জ্বালানি সংকট চলছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ছে। তবে বিকল্প উৎস থেকে শক্তি সংগ্রহসহ সংকট মোকাবিলায় উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দেশ এগিয়ে যাবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিজভী বলেন, অতীতের অনিয়ম ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি রোধে বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি করতে হবে।
সিএবির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন গবেষণার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।