বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সৎ ও আদর্শবান সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। গিয়াস কামাল চৌধুরী, আতাউস সামাদ ও ফয়েজ আহমেদের মতো সাংবাদিকরা কখনোই সত্য ও ন্যায়ের প্রশ্নে আপস করেননি। তাদের সাহসিকতা, নীতি ও দৃঢ় অবস্থান স্বৈরাচার উৎখাতের আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছিল।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, স্বৈরশাসক এরশাদের শাসনামলে দেশের প্রকৃত অবস্থা জানতে মানুষ বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকার ওপর নির্ভর করত। সে সময় ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী ও বিবিসির সাংবাদিক আতাউস সামাদের সংবাদ পরিবেশন মানুষের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্দোলন-সংগ্রামের খবর সাধারণ মানুষ তাদের কণ্ঠের মাধ্যমে জানতে পারে।
তিনি বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়। গ্রেফতার ও হয়রানি সত্ত্বেও গিয়াস কামাল চৌধুরী সাহসিকতার সাথে সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রেখেছেন। নিরাপত্তার কারণে অনেক সময় তাকে খবর পাঠানোর স্থান গোপন রাখতে হতো। পেশাগত দায়িত্বের প্রতি এমন নিষ্ঠা ও সাহসিকতা তাকে জনগণের মধ্যে বিশেষ সম্মানের স্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, সে সময়ের অনেক সাংবাদিক নীতিবান, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও আপসহীন ছিলেন। নানা প্রলোভন ও চাপের মুখেও তারা আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। সৎ সাংবাদিকতার যে দৃষ্টান্ত তারা রেখে গেছেন তা বর্তমান প্রজন্মের সাংবাদিকদের অনুসরণ করতে হবে।
গিয়াস কামাল চৌধুরীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, ছাত্র রাজনীতিতে যোগদানের পর থেকেই তার সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর অসাধারণ বাগ্মী দক্ষতা এবং যুবকদের প্রতি তাঁর আন্তরিক ও স্নেহপূর্ণ আচরণ দেখে তিনি মুগ্ধ হন। তিনি শুধু একজন সাহসী সাংবাদিকই ছিলেন না, তিনি একজন প্রতিরক্ষামূলক ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।
আলোচনা সভায় রুহুল কবির রিজভী গিয়াস কামাল চৌধুরীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।