শিশু সহিংসতা রোধে কঠোর ট্রাইব্যুনাল

1793688205223196 1793688205223196
1793688205223196

শিশুদের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা দমনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এসব মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হলে কারাদণ্ডের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশও দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল গত ৯ মাসে ছয়টি মামলায় আসামিদের দণ্ড দিয়েছেন। এর মধ্যে দুটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৪৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি মামলায় আসামিদের সাজা হয়েছে। বাকি মামলাগুলো বিভিন্ন কারণে নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনালে ১ হাজার ৯২১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

৫ কার্যদিবসে শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায়

শিশু সহিংসতার মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার নজির তৈরি করেছে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। গত ৭ জুন পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। মামলাটি মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করে রায় ঘোষণা করেন আদালত। শিশু হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ রায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার ২০০০ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন প্রণয়ন করে। এই আইনের অধীনে অপরাধের বিচার করতে প্রতিটি জেলা সদরে একটি করে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রাখা হয়। প্রয়োজনে সরকার একই জেলায় একাধিক ট্রাইব্যুনালও গঠন করতে পারে।

এসব ট্রাইব্যুনালের মূল উদ্দেশ্য দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা। তবে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গুরুতর সহিংসতা, বিশেষ করে ধর্ষণের পর হত্যার মতো অপরাধের বিচার দ্রুত শেষ করতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করা, ভুক্তভোগী শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল গত বছরের জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের পর হত্যার মামলাগুলো এই ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হয়।

বিচারাধীন ১ হাজার ৯২১টি মামলা

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে মোট ৪৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি মামলায় আসামিদের সাজা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সাজাপ্রাপ্ত ছয়টি মামলার মধ্যে দুটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে ১ হাজার ৯২১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

অপরাধীদের শাস্তির পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, শিশু সহিংসতার ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এসব অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিশু সহিংসতার মামলায় শুধু কারাদণ্ড নয়, মৃত্যুদণ্ড ও বড় অঙ্কের অর্থদণ্ডের রায়ও দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রায়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

পিপি আরও বলেন, ধর্ষণের পর হত্যার অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সেই বিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ করছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। তবে বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Keep Up to Date with the Most Important News

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Press Nation Bangladesh
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com