Homeজাতীয়শরীয়তপুরে তিন নারীসহ...

শরীয়তপুরে তিন নারীসহ চালককে গ্রেফতার করেছে ইউএনও

শরীয়তপুর জেলা শহরের তুলাসার এলাকার একটি আবাসিক ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) চালকসহ তিন নারীকে আটক করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথা জানায়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারের পূর্ব পাশে তুলসার গ্রামের একটি বহুতল আবাসিক ভবনের নিচতলা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

আটক চালকের নাম আবুল বাশার আকন। সে সদর উপজেলার তুলসার গ্রামের আবু কালাম আকনের ছেলে। তিনি ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি চালক হিসেবে কর্মরত।

বাড়ির কেয়ারটেকার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ৫ অক্টোবর ওই ভবনে বাসা ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে আবুল বাশারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গত ৮ অক্টোবর মশিউর রহমান হাওলাদারের মালিকানাধীন ভবনের নিচতলায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া হয়। পরে ১০ অক্টোবর সেখানে তিন নারী আরোহণ করেন। এরপর থেকে ওই ফ্ল্যাটে অপরিচিত পুরুষদের আনাগোনা বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ফ্ল্যাটে মাদক সেবনসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে। রোববার সকালে সরকারি গাড়ি নিয়ে ওই এলাকায় যান আবুল বাশার। বাড়ির সামনের গলিতে গাড়ি রেখে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তিন মহিলাসহ তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের হেফাজতে নেয়।

তবে আটক তিন নারী তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি আবুল বাশার তাদের চাচাতো ভাই এবং তিনিই তাদের বাড়ি ভাড়া দিয়েছেন। তাদের বাড়িতে বিভিন্ন লোক আসত এবং কেউ কেউ মাদক সেবন করত। অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় তাদের আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

অন্যদিকে আবুল বাশার দাবি করেন, ওই নারীদের সঙ্গে তার মৌখিক সম্পর্ক ছিল; তারা তার কাজিন নয়। রোববার তার কর্মকর্তাকে পেছনে ফেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক বৈঠকে নারীদের সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটক করে বলে জানান তিনি।

পালং মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস শুকুর ঘটনাস্থলে গিয়ে জানান, মাদক সেবন ও অনৈতিক কাজের অভিযোগে তিন নারী ও একজন পুরুষকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।