রংপুর বিভাগের জন্য অনুমোদিত ২০০ শয্যার মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র বিভাগীয় সদর থেকে লালমনিরহাটে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর আধা-সরকারি চিঠির (ডিও লেটার) ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে পূর্বানুমতি চেয়ে পরিকল্পনা কমিশনে চিঠি পাঠিয়েছে।
সরকারের এ উদ্যোগ জানাজানি হওয়ার পর রংপুরের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্যের (সিনিয়র সচিব) কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা সেবা বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পের অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী রংপুর সদর উপজেলার মন্থনা মৌজায় ১০ একর জমিতে কেন্দ্রটি নির্মাণের কথা ছিল। তবে তিন ফসলি জমি থাকায় স্থানীয় মালিকরা লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন, ফলে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় ত্রাণমন্ত্রী লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের বৈরাগীকুমুর ও নওদাবস মৌজায় মোট ১০ একর জমিতে প্রকল্পটি হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ডিও লেটার দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্প এলাকা পরিবর্তন ও ডিপিপি সংশোধনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের জরুরি সম্মতি চাওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে 1,413 কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদিত এই প্রকল্পের আওতায় রংপুর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহে প্রতিটিতে 200 শয্যা বিশিষ্ট একটি মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত রয়েছে, যা ইতিমধ্যে জাতীয় কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির (ইসিএনইসি) দ্বারা পাস হয়েছে। তবে আট জেলার কেন্দ্রস্থল রংপুর সদরে প্রথম প্রস্তাবিত জমি নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে বিকল্প জায়গা না পেয়ে প্রকল্পটি সরাসরি অন্য জেলায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা।
রংপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, রংপুর বিভাগীয় সদর হওয়ায় এখানে এমন একটি আঞ্চলিক চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা যুক্তিযুক্ত। অধিদপ্তরের জন্য নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানকে অন্য জেলায় স্থানান্তরের উদ্যোগ কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, যথাযথ বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভাগীয় সদরে প্রকল্পটি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই রংপুরে তা বহাল রাখার দাবি জানিয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাল্টা চিঠি দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, জমি সংক্রান্ত জটিলতার কথা বলা হলেও সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা চাওয়া হয়নি।কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পে রংপুরে পর্যাপ্ত জমি পাওয়া সম্ভব।
এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মহানগর সদস্য সচিব আবদুল মালেক এ উদ্যোগকে উন্নয়নের সুষম বণ্টনের পরিপন্থী উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক মাসুদ হোসেন বলেন, প্রকল্পটি অনুমোদনের পর জেলা প্রশাসন তাদের জমি অধিগ্রহণে জটিলতার কথা জানায়। পরে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় যে প্রকল্পটি লালমনিরহাটে স্থানান্তরের অংশ হিসেবে প্রকল্প পরিচালক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে রংপুর বিভাগীয় সদরে কেন্দ্রটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।