যৌতুকের বাকি ৪৫ হাজার টাকা না দেওয়ায় কুড়িগ্রামের উলিপুরে নাসরীন জাহান (২০) নামে এক গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে উপজেলার ফকির মোহাম্মদ নামানীর চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ বিকেলে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহত গৃহবধূর স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের দোলন এলাকার নুর ইসলামের মেয়ে নাসরিন জাহানের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ফকির মোহাম্মদ নামানীর চর এলাকার লালু মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন (২৫) বিয়ে করেন। বিয়ের পর আলমগীর প্রায়ই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। প্রচণ্ড মারধরের পর নাসরীনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ। মৃত্যু টের পেয়ে স্বামীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহত নাসরিনের লুজাই নামে আড়াই বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
নিহতের বাবা নূর ইসলাম বলেন, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ২৫ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। বাকি টাকা দিতে সময় নিয়েছি। চলতি মৌসুমে ধান বিক্রি করে টাকা দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে বাকি ৪৫ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে তার জামাই আলমগীর হোসেন ও পরিবারের লোকজন মেয়েটিকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। তারা প্রায়ই যৌতুকের জন্য মেয়েদের নির্যাতন করত।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। শুক্রবার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। ওই গৃহবধূর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে ওসি উল্লেখ করেন।