সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জামালপুরের মাদারগঞ্জে যমুনা নদীতে চলছে ইলিশ শিকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী থেকে ধরা এসব ইলিশ মাছ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রশাসনের অভিযান সত্ত্বেও ইলিশ ধরা ও বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুরী বাজারে অভিযান চালিয়ে ২০ কেজি ইলিশ জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর সীমান্তবর্তী দুর্গম মানিকদার, জামাথাল, ডাকাতমারায় আকার ভেদে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে এক হাজার টাকায়। নদী থেকে ধরা এসব ইলিশ মাদারগঞ্জ পার হয়ে দেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকার ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ সংগ্রহ, পরিবহন, মজুদ, বিপণন ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। নিষেধাজ্ঞার সময় পদ্মাসহ বিভিন্ন নদীতে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ ছিল, প্রজনন মৌসুমে মাছের প্রজনন থেকে শুরু করে নীচু নদীতে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ ছিল। আপস্ট্রিম ফলে বছরের এই সময়ে যমুনা নদীতে প্রচুর ইলিশ থাকে। স্থানীয় জেলেরা কারেন্ট জাল ও ফাঁদ জাল ব্যবহার করে সহজেই এসব মাছ ধরছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ সময়ে ধরা পড়া ইলিশ মাছ বিভিন্ন ঘাট ও নির্দিষ্ট পয়েন্টে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। রাতের আঁধারে মাদারগঞ্জের কয়েকজন চিহ্নিত মাছ ব্যবসায়ী এসব ইলিশ কিনে অন্য মাছের সঙ্গে মিশিয়ে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছে। যমুনা নদীতে প্রশাসনের অভিযানের পরও চলছে ইলিশ শিকার ও ব্যবসা।
ইলিশ শিকারে জড়িত জেলে রবিউল, হামিদুর ও কদ্দুস জানান, পেটের দায়ে তারা ইলিশ ধরে বিক্রি করেন। সরকারি সাহায্যের কথা তারা জানেন না বলেও দাবি করেন। মাছের আকার অনুযায়ী তারা প্রতি কেজি ৬০০ থেকে এক হাজার টাকা দরে ইলিশ বিক্রি করেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, মাদারগঞ্জের সীমানার মধ্যে কোনো জেলে মাছ ধরে বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে ইলিশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কয়েকদিন আগে ইলিশ ধরার কাজে ব্যবহৃত ৬০০ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দেওয়া হয় মঙ্গলবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযানে। বালিজুরি বাজারে অভিযান চালিয়ে ইলিশ জব্দ করা হয়, পরে মাছ দুটি এতিমখানায় দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, “৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম চলছে। এ সময় ইলিশ ধরা ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কয়েকদিন আগে যমুনা নদীর মোহনগঞ্জের সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৬০০ মিটার জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়, যদি কেউ বিড়াল বা বিড়াল সীমান্তে বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযান চালিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”