Homeজাতীয়নাটোরে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে...

নাটোরে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে শরীয়তপুরের ৫ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন

নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালু বোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া এলাকার সরকারপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়িক কাজে রাজশাহীর তাহেরপুর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তারা।

নিহতরা হলেন- জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর মাদবরকান্দি এলাকার জহির উদ্দিন মাদবরের ছেলে জুয়েল মাদবর, দুবিসাইবর মলিয়াকান্দি এলাকার জাহান উদ্দিন মল্যার ছেলে সালাল মোল্যা, দুবিসাইবার কাজিরহাট এলাকার ইউনুস শিকদারের ছেলে সোহাগ শিকদার, কাজিরহাট এলাকার সামাদ ও ফজলুল হকের ছেলে মো. পালেরচর ইউনিয়নের কাঠুরিয়া এলাকার মো. বেপারীর ছেলে শাহীন বেপারী, হলুদ ব্যবসায়ী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত পাঁচজনই দীর্ঘদিন ধরে কাজিরহাট ও আশপাশের এলাকায় ব্যবসা করে আসছিলেন। তারা ব্যবসায়িক কাজে রাজশাহীর তাহেরপুর যাচ্ছিলেন। সেখানে তারা ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনেসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।

নিহত জুয়েল মাদবর ভুসামাল ব্যবসার পাশাপাশি কাজিরহাটে রড-সিমেন্টের ব্যবসা করতেন। সামাদ ফকির ভুসামল ও শাহীন বেপারী হলুদের কারবার করছিলেন। স্থানীয়রা জানান, সালাল মোল্যা ও সোহাগ শিকদারও বিভিন্ন কৃষি পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

একই এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী হওয়ায় তাদের পারস্পরিক পরিচিতি ও সুসম্পর্ক ছিল। ব্যবসার কাজে তারা একসঙ্গে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন।

কাজিরহাটের ব্যবসায়ী দিদার সরদার বলেন, ‘ব্যবসার কারণে সবার সঙ্গে পরিচিত ছিলাম। তাদের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। তাদের মৃত্যুর খবর খুবই বেদনাদায়ক।’

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া এলাকায় সরকারপাড়ায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালু বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধারকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। পরে পাঁচ জাজিরা ব্যবসায়ীর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে তাদের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহমেদ জানান, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুর্ঘটনার বিষয়টি জানতে পারেন। তবে নাটোরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। লাশ জাজিরায় আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।