খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ডুমুরিয়া উপজেলার আটারোমিল এলাকায় মঙ্গলবার গভীর রাতে ও বুধবার বিকেলে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হলেও স্থানীয়দের দাবি আহতের সংখ্যা বেশি।
নিহতদের মধ্যে রয়েছে ক্রাউন সিমেন্ট কোম্পানির ট্রাক চালক মুন্সীগঞ্জ জেলার মোক্তারপুর গ্রামের জিন্নাত মিয়া (৩৫), অজ্ঞাত দুই বাসযাত্রী ২৫ ও ২৮ বছর এবং ডুমুরিয়া উপজেলার নরনিয়া গ্রামের আব্দুর রউফ গাজী (৪৩) ও ইউনুস সরদার (২৫)। খর্নিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সী পারভেজ আহমেদ পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামী ইমাদ পরিবহনের একটি বাস একটি মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে যাত্রী আব্দুর রউফ গাজী ও ইউনুস সরদার প্রায় ১৫ ফুট দূরে পড়ে যান। মাথায় গুরুতর আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
রউফ গাজী ডুমুরিয়ার চুকনগর বাজারে মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আড়তের কর্মচারী ইউনুস পাশের তালা উপজেলার কয়েকজন মাছ চাষীর বকেয়া পরিশোধ করতে চুকনগর বাজারে যান। বাড়ি ফেরার পথে আঠারো মাইল বাসস্ট্যান্ডের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে প্রায় একই স্থানে দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে। সাতক্ষীরায় সিমেন্ট খালাস করে খুলনায় ফেরার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা সাতক্ষীরাগামী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ক্রাউন সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধাক্কা লেগে ট্রাকটি রাস্তার পাশে পড়ে বাসটি খাদে পড়ে যায়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত ট্রাক চালক ডাঃ জিন্নাত মিয়াকে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাসমিয়া আক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উল্টে যাওয়া বাসের নিচ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানায়, রাত ১০টা পর্যন্ত তাদের নাম পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বাসটিতে যাত্রী ভর্তি ছিল। দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ৪৫ জন, যাদের সাতক্ষীরার তালা ও সদর হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি মুন্সী পারভেজ আহমেদ বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত দুইজনের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।