মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিং চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক জেলা নেতার বিরুদ্ধে। প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এ ঘটনায় তমাল নামে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম এনসিপির মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, পরিচিত একজনের মাধ্যমে এনসিপি নেতা আরিফুলের সঙ্গে তমালের পরিচয় হয়। ওই পরিচয়ের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে তার কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেন আরিফুল। শহরের একটি ফাস্ট ফুড আউটলেটে লেনদেন সম্পন্ন হয়।
পরে, 27 নভেম্বর 2025, তমালকে ‘এসএফ ট্রেড লিমিটেড’ নামে একটি ঠিকাদারি সংস্থার প্যাডে একটি নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু ওই নিয়োগপত্র নিয়ে হাসপাতালে যোগদানের সময় তিনি জানতে পারেন সেটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভুয়া।
নিয়োগপত্রটি ভুয়া প্রমাণিত হওয়ার পর তমাল তার টাকা ফেরত চাইলে আরিফুল তর্ক শুরু করে এবং সময় নষ্ট করে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, একপর্যায়ে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়। গত শনিবার ফোনে টাকা ফেরত চাওয়ার সময় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় আরিফুল ওই যুবককে অকথ্য ভাষায় হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে হাসপাতালে জনবল সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএফ ট্রেডের ব্যবস্থাপক নাসিম হাওলাদার বলেন, আউটসোর্সিংয়ে নতুন কোনো জনবল নিয়োগ করা হয়নি; আগের কর্মীদের দিয়েই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামের সঙ্গে তাদের সংগঠনের কোনো সম্পর্ক বা যোগাযোগ নেই বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ঘটনায় তার মানহানি হয়েছে দাবি করে সোমবার মানিকগঞ্জ সদর থানা আমলী আদালতে মানহানির মামলা করেছেন বলেও জানান তিনি।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, আরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।