গাড়িচাপায় নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু: যে কারণে জামিন পেলেন সেই কিশোর

Cb4108d7f1abde5bc5fe5a5caf1d02ac 6ae3603d4f152 Cb4108d7f1abde5bc5fe5a5caf1d02ac 6ae3603d4f152
Cb4108d7f1abde5bc5fe5a5caf1d02ac 6ae3603d4f152

রাজধানীর বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার  গ্রেফতার সেই কিশোরকে দুই হাজার টাকার মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। জামিনের আদেশে বিচারক উল্লেখ করেন, ওই কিশোরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি ও ডেঙ্গু পজিটিভে অসুস্থতা বিবেচনায় আইন অনুযায়ী তাকে জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-৮ এর বিচারক আব্দুল মোক্তাদির এই রায় ঘোষণা করেন।

জামিন মঞ্জুরের আদেশে বিচারক উল্লেখ করেন, ওই কিশোর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, কিডনি ও যকৃতে গুরুতর জটিলতা। এমনকি শ্রবণশক্তি হারানোর তথ্যও উঠে এসেছে চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতিবেদনে। এর মধ্যে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ৩০০ শিশুর ধারণক্ষমতার বিপরীতে রয়েছে ১ হাজার ১৯ জন। সেখানে প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যা নিশ্চিত করাও কঠিন।

এদিন আদালত দুই হাজার টাকা মুচলেকায় ওই কিশোরকে তার বাবা ও একজন আইনজীবীর জিম্মায় জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালতের আদেশে আরও বলা হয়েছে, শিশুটির চিকিৎসার ধারাবাহিকতা, নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে তার সর্বোত্তম স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। গুরুতর স্বাস্থ্যগত অবস্থা, সুচিকিৎসার প্রয়োজন এবং শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে এ জামিন দেওয়া হয়েছে।

আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, শিশু উন্নয়নকেন্দ্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর ওই কিশোরের তীব্র জ্বর ও অতিরিক্ত বমি শুরু হয়। প্রথমে তাকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতিবেদনে আজানের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ (ইন্টারনাল হেমোরেজ), আঘাতজনিত মাথার ক্ষত (ট্রমাটিক হেড ইনজুরি) ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত জটিলতার তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া তার শ্রবণশক্তি হারানোর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। পরীক্ষায় তার রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা পাওয়া যায় ৪ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এবং সিরাম বিলিরুবিনের মাত্রা ৫ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, এসব ফলাফল কিডনি ও যকৃতের কার্যকারিতা-সংক্রান্ত গুরুতর জটিলতার আশঙ্কা নির্দেশ করে।

ওই কিশোরের জামিনের পক্ষে ওঠে এসেছে শিশু উন্নয়নকেন্দ্রের ধারণক্ষমতার চিত্রও। আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রটির অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৩০০ শিশুর। কিন্তু সেখানে বর্তমানে রয়েছে ১ হাজার ১৯  শিশু। ফলে বিদ্যমান জনবল, অবকাঠামো ও পরিচর্যা-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার মধ্যে  জটিল শারীরিক অবস্থায় থাকা শিশুর বিশেষায়িত চিকিৎসা, নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা অত্যন্ত দুরূহ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শিশুটির চিকিৎসার ধারাবাহিকতা, নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে তার সর্বোত্তম স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কেন্দ্রে অবস্থানকালে তার শৃঙ্খলাবোধ ও আচার-ব্যবহারও সন্তোষজনক ছিল।

জামিন আবেদনের শুনানিতে ওই কিশোরের পক্ষে আইনজীবী দাবি করেন, ঘটনার দিন দুর্ঘটনার অব্যবহিত পর ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি উত্তেজিত জনতা শিশুটির ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। তাকে উপর্যুপরি ও বেধড়ক মারধর করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আটক হওয়ার পরও তার যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি।

আদালতে দাখিল করা জামিন আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আজানকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়নকেন্দ্র থেকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে তার তীব্র জ্বর, বমি ও পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়ার কথা উল্লেখ ছিল। পরবর্তী সময়ে এমআরআই প্রতিবেদনে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের বিষয়টি প্রতীয়মান হয় বলে জামিন আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আইনজীবী আদালতে বলেন, শিশু আজান আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং পরিস্থিতির শিকার। সে নির্দোষ বলেও দাবি করেন তিনি। শিশুটির গুরুতর অসুস্থতার কথা তুলে ধরে যেকোনও শর্তে জামিনের আবেদন জানান তিনি। তবে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে।

আবেদনে ওই কিশোরের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষার বিষয়টিও আদালতের বিবেচনায় আসে। প্যারামাউন্ট ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন (পিআইই) থেকে দেওয়া প্রত্যয়নপত্রে তার শিক্ষাগত পরিস্থিতি ও আসন্ন পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, শিশুটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন অনুযায়ী শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেও তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্যগত অবস্থা, বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন, শিশু উন্নয়নকেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা, সন্তোষজনক আচরণ ও পড়াশোনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

আদেশে বলা হয়েছে, শিশু আইন, ২০১৩-এর ৩৪ ধারার বিধান অনুযায়ী বর্ণিত অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর মেয়াদে আটকাদেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। প্রায় এক মাস পাঁচ দিন আটক থাকার পর গুরুতর স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় ওই কিশোরকে ২ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দেওয়া হয়।

 

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Keep Up to Date with the Most Important News

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Press Nation Bangladesh
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com