গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার শারদীয় দূর্গা পূজা মন্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা মিয়া (৫০) নামে এক আনসার ও ভিডিপি সদস্য হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। চলমান দুর্গাপূজায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উপজেলায় এক নারীসহ দুই আনসার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে তাকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে বিকেলে সার্বজনীন দূর্গা মন্ডপে পূর্ব কিশামত হামিদ, নলডাঙ্গা ইউনিয়ন, সাদুল্লাপুরে ডিউটি করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
নিহত মিয়া উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা নাছিম উদ্দিনের ছেলে।
মণ্ডপে নিযুক্ত গ্রাম পুলিশকর্মী চিত্ত রঞ্জন বলেন, তারা একসঙ্গে মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। বুধবার দুপুরে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে মন্দিরের পাশে টয়লেটে যাওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তারা মিয়া। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় যিনি তাকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন এসে তাকে চিকিৎসা দেন।
সাদুল্লাপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা রেখা রায় জানান, অসুস্থ তারা মিয়াকে প্রথমে অ্যাম্বুলেন্সে করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। তবে রংপুরে যাওয়ার পথে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মিয়া মারা গেছেন বলে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুল ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্যরা আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ বাড়িতে নিয়ে গেছে।
এর আগে গত রোববার (১৮ অক্টোবর) উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের কিশামত বড়বাড়ী সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরে কর্তব্যরত অবস্থায় পারভীন বেগম (৪৬) নামে এক নারী আনসার সদস্য হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পারভীন বেগম কিশামত বড়বাড়ী গ্রামের মফিজল হকের মেয়ে।