বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রাম সোনাতলা। কৃষকরা সেখানে ধান ক্ষেতে কাজ করতে যান। কিন্তু হঠাৎ মাঠে একটা পশুর বড় পায়ের ছাপ দেখে তাদের চোখ আটকে গেল। সেই পায়ের ছাপের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে- ‘গ্রামে বাঘ ঢুকেছে’। খবর পেয়ে ছুটে আসেন বন দফতরের কর্মীরা। তারাও বিভিন্ন চিহ্ন সংগ্রহ করে বাঘের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন।
শরণখোলা গ্রামের মানুষকে অত্যাধুনিক মাইক নিয়ে সাবধানে চলাচল করতে বলা হচ্ছে। এছাড়াও ড্রোন উড়িয়ে ধানক্ষেতে বাঘের সন্ধান করছে বন বিভাগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামে বাঘ প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে। বনরক্ষীরা ধান খেতে বাঘের সন্ধানে ড্রোন উড়েছে। রাতে গ্রামে মানুষের আনাগোনা কমে গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে রোববার রাতে সুন্দরবন থেকে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার পূর্ব সোনাতলা গ্রামে একটি বাঘ ঢুকেছে। গ্রামের ধানক্ষেতসহ বিভিন্ন স্থানে বাঘের পায়ের ছাপ দেখেছেন গ্রামবাসী। জনগণকে সচেতন করতে মাইকিং শুরু করেছেন বনরক্ষী সিপিজি ও ভিটিআরটি সদস্যরা।
বন বিভাগের কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) নেতা। খলিল জোমাদ্দার জানান, সোমবার বিকেলে সুন্দরবন সংলগ্ন পূর্ব সোনাতলা গ্রামের সারোয়ার হাওলাদারের বাড়ির সামনে ও আবু রাজ্জাক আকনের মাছের ঘেরের পাড়ে বাঘের পায়ের ছাপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখেন বাসিন্দারা। গ্রামবাসীরা দ্রুত বিষয়টি সুন্দরবন বিভাগ, ভিটিআরটি এবং সিপিজি সদস্যদের জানায়। খবর পেয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম ফরেস্ট রেঞ্জার, সিপিজি ও ভিটিআরটি সদস্যদের নিয়ে পূর্ব সোনাতলা গ্রামে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ধানক্ষেতের দিকে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান।

সোনাতলা গ্রামের সিপিজির সহকারী টিম লিডার মোঃ সাচ্চু আকন জানান, গ্রামের ধানক্ষেত ও সবজি ক্ষেতে বাঘের পায়ের ছাপ দেখে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাঘের ভয়ে রাতে গ্রামে মানুষের চলাচল কমে গেছে। সিপিজির এই সহকারী দলনেতা জানান, সোমবার সকাল থেকে শরণখোলা, পানিরঘাট, সোনাতলা, মডেলবাজার ও পূর্ব সোনাতলা গ্রামের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় মাইকিং করে লোকজনকে সাবধানে চলাচল করা হয়েছে। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন পানিঘাট সোনাতলা গ্রামে বাঘ ঘুরে ঘুরে সুন্দরবনে ফিরে আসার আলামত পাওয়া যায়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, গ্রামে বাঘ আসার খবর পেয়ে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পূর্ব সোনাতলা গ্রামের ধানক্ষেতের ওপর দিয়ে বাঘের সন্ধানে ড্রোন উড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বাঘের সন্ধান মেলেনি। সুন্দরবনে বাঘের ফেরার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বাঘ সাঁতরে ভোলা নদী পার হয়ে লোকালয়ে আসে। ভিটিআরটি এবং সিপিজি সদস্যদের সাথে মাইকিং এবং বনরক্ষীদের জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য এলাকায় চব্বিশ ঘন্টা টহল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এসিএফ জানিয়েছে।