নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মেঘনাপাড়ের হোটেলগুলোতে ডিমসহ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে

9ef97d31a917ef4d86e09a8d2866034a 6adeee571e4ed 9ef97d31a917ef4d86e09a8d2866034a 6adeee571e4ed
9ef97d31a917ef4d86e09a8d2866034a 6adeee571e4ed

মা ইলিশের বংশবৃদ্ধি রোধে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনাপাড়ের বিভিন্ন বাজারের চালের হোটেলে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ডিমসহ ভাজা ইলিশ। উপজেলার ষাটনল, ছাতকি, মোহনপুর, চরকাশিম, এখলাপুর, আনন্দ ও আমিরাবাদ বাজারের হোটেলগুলোতে এসব ইলিশ পাওয়া যায়। এতে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইলিশ ভাজা ভোজন রসিক বাঙালিদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ডিম ছাড়া ইলিশের চেয়ে ডিমসহ ইলিশের চাহিদা বেশি। এ চাহিদার ভিত্তিতে স্থানীয় হোটেলগুলোতে ডিমসহ ভাজা ইলিশের দাম তুলনামূলক বেশি রাখা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রায় তিনশ মিটার দূরে মেঘনাপাড়ের মোহনপুর বাজারে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস অবস্থিত। রবিবার ও সোমবার এখানে জমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জমি নিবন্ধন সপ্তাহে মাত্র দুই দিন হওয়ায় এ দুই দিনে চার শতাধিক দলিল নিবন্ধন হয় বলে জানা গেছে। এই দলিলগুলির সাথে প্রায় 800 টি পক্ষ জড়িত থাকায়, জমি রেজিস্ট্রেশনকে কেন্দ্র করে প্রচুর সংখ্যক লোক বাজারে জড়ো হয়। জমি রেজিস্ট্রি করতে আসা এসব লোকের কাছে পর্যাপ্ত নগদ টাকাও রয়েছে।

এ কারণে রোববার (২৫ অক্টোবর) জমি রেজিস্ট্রেশনের দিন মোহনপুর বাজারে ভাতের হোটেলে ভাজা ইলিশ বিক্রির চিত্র ছিল চোখে পড়ার মতো। নিষেধাজ্ঞার সময় বাজারের হোটেলগুলোতে ডিমসহ ইলিশ বিক্রি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

আইন অমান্য করে স্থানীয় বাজার বা হোটেলে ইলিশ বিক্রি হতে দেখলে সচেতন নাগরিক হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে। তবে মেঘনাপাড়ের কয়েকজন স্কুল শিক্ষক জানান, স্থানীয় লোকজন তথ্য দিলে সমস্যা বা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে চান না।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকার কর্তৃক জারি করা নিষেধাজ্ঞায় স্থানীয় বাজার, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অবাধে ইলিশ বিক্রি দেশের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধিতে মারাত্মক বাধা। ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় সচেতনতারও ভূমিকা রাখতে হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যেসব হোটেলে ইলিশ পরিবেশন করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, মাছ ধরা নিষিদ্ধ এলাকার হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাওয়ার জন্য ইলিশ পরিবেশন করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময় মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির স্বার্থে স্থানীয় সচেতন জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

Add a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Keep Up to Date with the Most Important News

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Press Nation Bangladesh