দুবাই থেকে ঢাকায় আসার পর প্যান্ট ও অন্তর্বাসের মধ্যে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে স্বর্ণের পেস্ট বহনের অভিযোগে গ্রেফতার দুই চীনা নাগরিককে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।
বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ডে পাঠানো দুই আসামি হলেন চেন লিউন ও মো শিয়াওইউ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দুবাই থেকে এমিরেটসের ফ্লাইট ইকে৫৮৬ যোগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন ওই দুই যাত্রী। কোনও ব্যাগেজ ঘোষণা না দিয়ে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় কাস্টমসের শিফটে-এ ও প্রিভেনটিভ টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাদের পরিহিত জিন্সের প্যান্ট ও অন্তর্বাসের মধ্যে কালো কাপড় দিয়ে সেলাই করে বিশেষ কায়দায় লুকানো নরম হলুদ রঙের পেস্টজাতীয় বস্তু পাওয়া যায়।
পরে সংশ্লিষ্ট কাপড় কেটে বস্তুগুলো উদ্ধার করা হয়। এ সময় এনএসআই, ডিজিএফআইসহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্ধার করা বস্তুগুলো সাদা পলিথিনে মুড়িয়ে স্কচটেপ দিয়ে আটকানো ছিল। প্রাথমিকভাবে স্বর্ণকারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে এগুলো ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণ বলে নিশ্চিত করা হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, দুই আসামির প্রত্যেকের কাছ থেকে আনুমানিক ছয় কেজি করে মোট ১২ কেজি স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়নি। এ ঘটনায় আসামিদের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন, পরিহিত প্যান্ট, অন্তর্বাস ও স্কচটেপসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।
উদ্ধার করা স্বর্ণ বিমানবন্দর কাস্টমসের মূল্যবান গুদামে জমা রাখা হয়েছে। জব্দ করা অন্যান্য আলামত বিমানবন্দর থানায় জমা দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, উদ্ধার করা স্বর্ণের চালান বহনের পক্ষে কোনও বৈধ দলিল দেখাতে পারেননি আসামিরা। তাদের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় ১৯৫০ সালের আমদানি ও রফতানি নিয়ন্ত্রণ আইন, কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (প্রিভেন্টিভ) জামিল সারোয়ার আহাদ বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।
স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে সে তথ্য উদঘাটন ও মামলার তদন্তের স্বার্থে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত ৭ দিনের মঞ্জুর করেন।