গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক বৃদ্ধের জানাজা ও দাফন বন্ধ রয়েছে। বাবার সম্পত্তিতে ন্যায্য অংশ না পাওয়ার অভিযোগ করে জানাজায় আপত্তি জানান মেয়ে হালিমা বেগম। বাড়ির উঠানে 75 বছর বয়সী কৃষক নাজির উদ্দিন বেপারীর লাশ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও বিকেল ৩টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টা লাশ পড়ে ছিল উঠানে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত নাজির উদ্দিন সাদুল্লাপুর উপজেলার থাপেরহাট ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বোয়ালীদহ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন। তার একটি ছেলে ইদ্রিস আলী (48) এবং একটি মেয়ে হালিমা বেওয়া (50) রয়েছে। গত রোববার বিকেল ৩টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মারা যান।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নজির উদ্দিন জীবদ্দশায় তার সম্পত্তি ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করেন। সোমবার সকাল ১০টায় জানাজা হলে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে উপস্থিত হন। তবে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে জানাজায় বাধা দেন মেয়ে হালিমা।
মেয়ে হালিমা বেগম অভিযোগ করেন, তার ভাই ইদ্রিস আলী তার বাবার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে সব সম্পত্তি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করেন। তিনি বলেন, এক বিঘা জমির ভাগ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি তার বাবার শেষকৃত্য হতে দেবেন না।
অন্যদিকে নাজির উদ্দিনের ছেলে ইদ্রিস আলীর দাবি, তার বাবা স্বেচ্ছায় তাকে জমি লিখে দিয়েছেন। ওই সম্পত্তিতে তার বোনের কোনো অংশ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
জানাজায় অংশ নিতে আসা স্থানীয় লোকজন আলোচনার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। ফলে সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বাড়ির উঠানে পড়ে ছিল নাজির উদ্দিনের লাশ।
ধাপেরহাটের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম শিপন বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। স্থানীয় উদ্যোগে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং দ্রুত জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। পরে সিদ্ধান্ত হয়, মরদেহ দাফনের পর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করা হবে।
থাপেরহাট তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) পরিদর্শক এস্তেখার হাসান জানান, এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ নিয়ে তদন্ত কেন্দ্রে আসেন এক ব্যক্তি। তার কাছে লিখিত অভিযোগ চাওয়া হয়েছে। পরে তিনি আর আসেননি।