পুরনো উপাচার্যকে অপসারণ ও নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত ১৬ দিন ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ নতুন উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কি রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে, নাকি তার যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থই নিয়োগের প্রধান বিবেচ্য হবে?’
বুধবার (৭ অক্টোবর) ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
পাঠকের জন্য আসিফ মাহমুদের পোস্টটি তুলে ধরা হলো:
১৬ দিন ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুট)। চুয়েটের বর্তমান সংকট শুধু একজন উপাচার্যকে অপসারণ ও আরেকজনকে নিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলেই চলবে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে রাজনৈতিক আনুগত্য প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন।
27 জুলাই, 2026-এ, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম চুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে নিযুক্ত হন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র 56 দিন পর 2026 সালের 21শে সেপ্টেম্বর রাতে কোনো কারণ ছাড়াই তাকে অপসারণ করা হয়। আর নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কুয়েতের অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলম।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, মেধার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে নতুন উপাচার্য নিয়োগ করা হয়েছে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে সরকার বা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলে সেই নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও একাডেমিক পরিবেশের জন্য গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের কারণ জানা যায়নি। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির কারণে নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে এসে দায়িত্ব নিতে না পারলেও অনলাইনে দায়িত্ব পালন করছেন। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ কর্মবিরতি, মশাল মিছিল, গণস্বাক্ষর, গ্রাফিতি, লাল কার্ড প্রদর্শনসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেছে। পরে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তাদের দাবিতে সংহতি জানিয়ে ধর্মঘটে যান।
কিন্তু এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দাবির কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। বরং আন্দোলনকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে ছাত্রদের যৌক্তিক দাবি উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। নতুন উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতা অনলাইনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ করেছে। ব্যাংকে ডাকযোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন আটকে রাখা হয়েছে।
প্রশ্নটা খুবই সহজ। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কি রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে, নাকি নিয়োগের ক্ষেত্রে তার যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ প্রধান বিবেচ্য হবে?
ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোনো দলের হাতে তুলে দিতে চায় না। তারা এমন প্রশাসন চায় যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
চুয়েটে পড়ালেখা অনেকদিন ধরেই স্থবির। ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর দায় শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো যাবে না।
সরকারকে রাজনৈতিক আনুগত্যকে গুরুত্ব না দিয়ে দ্রুত এই নিয়োগের ব্যাখ্যা দিতে হবে, শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়ে চুয়েটের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
মনে রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নয়। চুয়েটেরও একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি দরকার, রাজনৈতিক ভিসি নয়।’