ভারতকে ভাগ করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি দাবি করেন, ভারতের অগ্রগতিতে ঈর্ষান্বিত কিছু শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। রাজপথে আন্দোলন করে সরকার পরিবর্তনের ধারণা ভুল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (20 অক্টোবর) মহারাষ্ট্রের নাগপুরে আরএসএস-এর বিজয়া দশমী উদযাপনে বক্তৃতাকালে মোহন ভাগবত এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভারতের প্রবৃদ্ধি ও শক্তি অনেকের কাছেই অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এসব শক্তি দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পেরে অনৈক্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাদের প্ররোচনায় কেউ কেউ আন্দোলনে নামছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ভারতে সাম্প্রতিক সরকার বিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে বিজেপি এবং আরএসএস নেতাদের সমালোচনার মধ্যে ভাগবতের বিবৃতি এসেছে। এর আগে আরএসএসের মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’ কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনকে ভারতবিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছিল।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভে বিদেশি শক্তি জড়িত থাকার অভিযোগও করেছেন বিজেপির বিভিন্ন নেতা। তাদের কেউ কেউ মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরেসের আর্থিক সহায়তা এবং পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাদের অভিযোগ, বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশে সরকার উৎখাতের পর ভারতেও একই ধরনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মোহন ভাগবত তার বক্তৃতায় ফ্রান্স, আলবেনিয়া, বাংলাদেশ ও নেপালের পরিস্থিতির উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কিছু বিশ্বশক্তি ভারতকে দুর্বল দেখতে চায়। এই শক্তিগুলি ভারতের সংস্কৃতি, শৃঙ্খলা, সমাজ ব্যবস্থা এবং মানবিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে। তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরএসএস প্রধান এই ধারণারও সমালোচনা করেছেন যে সরকার পরিবর্তন হলেই সমস্ত সমস্যার সমাধান হবে। তার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আন্দোলন হতে পারে, কিন্তু সেই আন্দোলনের লক্ষ্য হওয়া উচিত সমস্যার সমাধান, দেশকে ধ্বংস করা নয়।
ভাগবত আরও বলেছিলেন যে কিছু শক্তি ভারত, হিন্দু এবং আরএসএসের ক্ষতি করার জন্য পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। ক্ষমতা দখলের আকাঙ্ক্ষায় কিছু উচ্চাভিলাষী নেতাও এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে দাবি করেন তিনি। তবে, এই গোষ্ঠীগুলি দেশের মানুষের মধ্যে ঘৃণা, সংঘাত এবং বিভাজন তৈরি করতে পারে না, বলেছেন আরএসএস প্রধান।